• সোমবার , ১৩ জুলাই, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র গ্রেপ্তার

গাইবান্ধায় রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৫৩ ১৩ জুলাই ২০২৬

গাইবানন্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় আলোচিত রামমূর্তি নির্মাণ প্রকল্পের প্রধান উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র ওরফে তরুণী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় করা একটি মানি লন্ডারিং মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার, ১২ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামে অবস্থিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালীমন্দির এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে সিআইডির সদস্যরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যান।

গ্রেপ্তার হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ চন্দ্র দাসের ছেলে। স্থানীয় মন্দিরের সংস্কার এবং মন্দির চত্বরে রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর তিনি দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরোয়ার আলম খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকার একটি মামলায় সিআইডি হরিদাসকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর মন্দির ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে হরিদাস চতুর্থ। তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে প্রাথমিক পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনার পর ভারতে চলে যান। দীর্ঘদিন পর ২০২৪ সালে নিজ গ্রামে ফিরে এসে স্থানীয় কালীমন্দিরের পুরোনো স্থাপনা সংস্কারের উদ্যোগ নেন।

পরবর্তী সময়ে গ্রামবাসীদের নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে একটি মন্দির পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে হরিদাসকে সভাপতি এবং বিপিন চন্দ্র দাসকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

২০২৫ সালের মে মাসে পুরোনো মন্দিরের অবকাঠামো পরিবর্তন ও আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়। পরে মন্দিরটির নাম পরিবর্তন করে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালীমন্দির রাখা হয়। সম্প্রতি মন্দির চত্বরে ৮১ ফুট উচ্চতার একটি রামমূর্তি নির্মাণের কাজ শুরু হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

মূর্তি নির্মাণের অনুমতি, প্রকল্পের ব্যয় এবং অর্থের উৎস নিয়ে বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তোলে। কয়েকটি এলাকায় এই নির্মাণকাজ বন্ধ, অর্থায়নের উৎস তদন্ত এবং উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সভা ও কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়। তবে এসব দাবি ও অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাব ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার একটি যৌথ দল। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগ করেছিল, তিনি সরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, বদলি ও টেন্ডারসংক্রান্ত সুবিধা দেওয়ার কথা বলে অর্থ নিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তখন আরও দাবি করেছিল, হরিদাস একসময় ধর্মান্তরিত হয়ে তাওহীদ ইসলাম নাম ব্যবহার করেছিলেন এবং ঢাকায় পুরোনো শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র মেরামত ও কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। এগুলো সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সে সময়কার অভিযোগ; আদালতের চূড়ান্ত রায় ছাড়া কোনো অভিযোগকেই প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

বর্তমান মানি লন্ডারিং মামলায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, লেনদেনের পরিমাণ এবং অন্য কোনো ব্যক্তি আসামি রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। হরিদাস বা তার আইনজীবীর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন