• সোমবার , ৩১ আগস্ট, ২০২৬ | ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিবির সভাপতির অভিযোগ: ইবি ক্যাম্পাসে ফিরছে ফের ‘গণরুম সংস্কৃতি’

শিবির সভাপতির অভিযোগ: ইবি ক্যাম্পাসে ফিরছে ফের ‘গণরুম সংস্কৃতি’

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:৪০ ১৮ অক্টোবর ২০২৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আবারও গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নির্দিষ্ট মহল এ ধরনের অনৈতিক সংস্কৃতি পুনরায় চালু করতে চাইছে এবং কিছু প্রাধ্যক্ষও এতে সহযোগিতা করছেন।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে সাজিদ হত্যার বিচারসহ পাঁচ দফা দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিবির আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তোলেন।

মাহমুদুল হাসান বলেন, “একটি নির্দিষ্ট মহল আবারও আওয়ামী লীগের শাসনামলের মতো গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। কোনোভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। যদি এমন চেষ্টা করা হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।”

তিনি আরও বলেন, “ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার ৯৩ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন এখনো খুনিদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নয়, বর্তমান ইন্টেরিম সরকারেরও ব্যর্থতা। দ্রুততম সময়ে সাজিদের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় না আনলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”

ছাত্রসংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রশাসন আইনের অজুহাতে ইকসু (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) নির্বাচন আয়োজন করছে না। অথচ বেগম রোকেয়া ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে তাদের ছাত্র সংসদের আইন পাস করে নির্বাচনের পথে এগোচ্ছে। ইবি প্রশাসন ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত করার আশ্বাস দিলেও ১৮ তারিখ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যদি আর টালবাহানা করা হয়, শিক্ষার্থীরা এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে।”

শিক্ষক সংকটের বিষয়ে শিবির সভাপতি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগে ৫ থেকে ৭টি ব্যাচ চলমান, কিন্তু শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন। এতে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অবিলম্বে মেধা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে টেন্ডার হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন হলগুলোর কাজ ২০২৫ সালেও শেষ হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট চরমে পৌঁছেছে। “চলতি বছরের মধ্যেই সব হলের নির্মাণকাজ শেষ করে শিক্ষার্থীদের কাছে হস্তান্তর ও মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টনের দাবি জানাই,” বলেন মাহমুদুল হাসান।

সমাবেশে সংগঠনটি পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে — সাজিদ হত্যার দ্রুত বিচার, ইকসুর নীতিমালা ও রোডম্যাপ প্রকাশ, ডিজিটাল পেমেন্ট চালু, চলতি বছরেই নির্মাণাধীন হলগুলো চালু করা এবং মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ। তারা হুঁশিয়ারি দেয়, সাত দিনের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু না হলে প্রশাসন অচল করে দেওয়া হবে।

এর আগে বেলা দেড়টার দিকে বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বটতলায় এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

মিছিলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন—
“আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে,”
“সাজিদ হত্যার তদন্ত দ্রুত করো,”
“হলগুলো চালু করো, ভোগান্তি দূর করো,”
“ইকসুর তারিখ ঘোষণা করো,”
“ডিজিটাল পেমেন্ট চালু হোক, ভোগান্তি দূর হোক,”
“নিয়োগ হবে স্বচ্ছ, শিক্ষক হবে দক্ষ,”
“মেধা আর স্বচ্ছতা, নিয়োগে চাই ন্যায্যতা,” ইত্যাদি।

সমাবেশে ইবি শিবির সভাপতি মাহমুদুল হাসান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি ইউসুব আলী, অফিস সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফি, অর্থ সম্পাদক শেখ আল আমিন, প্রচার সম্পাদক আবসার নবী হামজা, দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক হাসানুল বান্না ও পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী।

এমএনবিডি/তানিম তানভীর
 

বিজ্ঞাপন