• শুক্রবার , ২৬ জুন, ২০২৬ | ১২ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌলিক সংস্কারের দাবি অগ্রাহ্য করছে সরকার: শফিকুর রহমান

মৌলিক সংস্কারের দাবি অগ্রাহ্য করছে সরকার: শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:০৯ ২৬ জুন ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, জনগণের মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না। তার দাবি, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীন না হলে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয়।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজার আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ একটি বাস্তব পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল। বহু মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও কার্যকর করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এখনো সেই মৌলিক জায়গাগুলো আগের মতোই রয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন ছাড়া দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সুসংহত করা কঠিন। তার ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠান দুর্বল থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা আবারও মাথাচাড়া দিতে পারে।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের বড় অংশ যে মত দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো গণভোটের প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বললেও পরে জনগণের সিদ্ধান্তকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংসদে এবং সংসদের বাইরে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি বারবার উত্থাপন করা হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকেও এ দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি চলছে। তার মতে, এটি কোনো একক দল বা জোটের দাবি নয়; বরং জনগণের রায়ের বাস্তবায়নের প্রশ্ন।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা দায়িত্বে থাকেন, তাদের সততা, জবাবদিহি ও নৈতিক অবস্থানের ওপর সমাজের শান্তি ও নিরাপত্তা অনেকাংশে নির্ভর করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও মানুষের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার জন্য তিনি শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতাকে দায়ী করেন।

জামায়াত আমির বলেন, দেশে সামাজিক শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সংস্কার ও সুশাসন নিশ্চিত করা।

অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/