• সোমবার , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ | ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’— নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানারে ফের আলোচনায় চবি

‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’— নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানারে ফের আলোচনায় চবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ফের তাদের তৎপরতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রবিবার (২ নভেম্বর) ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলের প্রধান ফটকে ঝুলতে দেখা যায় ছাত্রলীগের নামে একটি ব্যানার।

ব্যানারে লেখা ছিল—
“আমার মাটি আমার মা, সেন্ট মার্টিন ও চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হতে দেব না। জাগো বাঙালি, জাগো মাতৃভূমি রক্ষা করো। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে।”

ব্যানারের একপাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং অন্য পাশে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ছবি দেখা যায়।

ভোরে ব্যানারটি টানানোর পর থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও শিক্ষার্থীদের গ্রুপে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

চাকসুর নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি ও ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা ইব্রাহিম রনি ফেসবুকে লেখেন,
“চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি স্থানে রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানার টাঙানো হয়েছে। তারা ভুলে গেছে, এটি শহিদ তরুয়া ও শহিদ ফরহাদের রক্তসিক্ত ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাস নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নোমান বলেন,
“রাতের আধারে আলাওল হলের গেইটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ব্যানার সাঁটিয়েছে তারা। প্রশাসনে থাকা কিছু সাবেক ছাত্রলীগার এতে সম্পৃক্ত থাকতে পারে। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।”

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিমুল হাসান তানিম বলেন,
“রাতের অন্ধকারে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানার টাঙানো উদ্বেগজনক ও পরিকল্পিত ঘটনা। এটি ক্যাম্পাসের স্থিতিশীল পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা। প্রশাসনের নীরবতা এসব গোষ্ঠীকে আরও বেপরোয়া করে তুলছে।”

তিনি আরও বলেন,
“শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসের শান্তি বজায় রাখতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা জরুরি।”

উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্টের অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড দেখা যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শাটল ট্রেনের বিভিন্ন স্থানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানসংবলিত গ্রাফিতি দেখা গেছে, যা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/