• শুক্রবার , ০৯ অক্টোবর, ২০২৬ | ২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের দাবি, চাওয়া হয়েছে ৪ লাখ ডলার

পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের দাবি, চাওয়া হয়েছে ৪ লাখ ডলার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:১৮ ৯ অক্টোবর ২০২৬

ডিজিটাল সেবা প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য নিজেদের কাছে থাকার দাবি করেছে একটি সাইবার অপরাধী চক্র। ওই গোষ্ঠী ৪ লাখ মার্কিন ডলার দাবি করেছে এবং অর্থ না দিলে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের হুমকি দিয়েছে। তবে পাঠাও এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁসের দাবি নিশ্চিত করেনি; প্রতিষ্ঠানটি শুধু কিছু ব্যবহারকারীর নাম, ই-মেইল ও ফোন নম্বর অননুমোদিতভাবে অ্যাকসেস হওয়ার কথা স্বীকার করেছে।

সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ডেইলি ডার্ক ওয়েবের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, হ্যাকাররা পাঠাওয়ের প্রায় ১৯ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৯০ লাখ অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরির দাবি করেছে। একই সঙ্গে তারা ৪ লাখ ডলার মুক্তিপণ দাবি করেছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ তথ্য সত্যিই তাদের কাছে রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

কী বলছে পাঠাও

পাঠাও জানিয়েছে, ৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটি একটি সাইবার নিরাপত্তাজনিত ঘটনা শনাক্ত করে। এরপর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিস্টেম সাময়িকভাবে অফলাইনে নেওয়া হয়। কিছু সময় পর সেবাগুলো আবার চালু করা হলেও সিস্টেম স্থিতিশীল করার কাজ চলতে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা কিছু ব্যবহারকারীর নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বর সংগ্রহ করতে পেরেছে। তবে কতজন ব্যবহারকারী এতে আক্রান্ত হয়েছেন কিংবা হ্যাকাররা কীভাবে সিস্টেমে প্রবেশ করেছে, সে বিষয়ে পাঠাও বিস্তারিত জানায়নি।

পাঠাও আরও জানিয়েছে, ঘটনার পর বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণ পরিসর নির্ধারণে তদন্ত চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হবে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

হ্যাকারদের বড় দাবি

ডার্ক ওয়েবে প্রকাশিত দাবিতে বলা হয়েছে, তাদের কাছে পাঠাওয়ের ১৩৩ গিগাবাইটের বেশি তথ্য রয়েছে। এতে প্রায় ২৫ কোটি রেকর্ড এবং শতাধিক ডেটাবেস থাকার কথাও দাবি করা হয়েছে।

হ্যাকারদের আরও দাবি, এসব তথ্যের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য, ছবি, বাসার ঠিকানা, ব্যবসায়ীদের ব্যাংকসংক্রান্ত তথ্য, কর্মীদের তথ্য এবং প্রশাসনিক প্রবেশাধিকারের নথিও রয়েছে।

তবে এসব দাবির বিস্তারিত অংশ এখনো পাঠাও নিশ্চিত করেনি। ফলে এনআইডি, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ব্যাংকসংক্রান্ত তথ্য সত্যিই ফাঁস হয়েছে—এমন বিষয়কে এই পর্যায়ে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পাঠাও যে তথ্য অ্যাকসেস হওয়ার কথা স্বীকার করেছে, তা হলো নাম, ই-মেইল এবং ফোন নম্বর।

৪ লাখ ডলারের দাবি

ডার্ক ওয়েব পোস্টে হ্যাকাররা পাঠাওয়ের কাছে ৪ লাখ মার্কিন ডলার দাবি করেছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। টাকা না দিলে তাদের কাছে থাকা কথিত তথ্য প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন পাঠাও নিজেদের বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তাদের ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে।

সাইবার হামলার পর এখন মূল প্রশ্ন হলো—প্রকৃতপক্ষে কতজন ব্যবহারকারীর তথ্য আক্রান্ত হয়েছে এবং কী ধরনের তথ্য হ্যাকারদের হাতে গেছে। এ বিষয়ে পূর্ণ চিত্র জানতে পাঠাওয়ের তদন্ত এবং সম্ভাব্য ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

বিজ্ঞাপন