• বৃহস্পতিবার , ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ | ২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮ মাস পর চালু, দুই দিনের মাথায় ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা

৮ মাস পর চালু, দুই দিনের মাথায় ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:০০ ৮ অক্টোবর ২০২৬

গ্যাস সংকটে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরেছিল জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানা। কিন্তু চালুর মাত্র দুই দিনের মাথায় বয়লার প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আবারও বন্ধ হয়ে গেছে ইউরিয়া উৎপাদন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) কারখানার বয়লারে ত্রুটি দেখা দিলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কারখানার অন্যান্য ইউনিট সচল থাকলেও ত্রুটি সারানো না পর্যন্ত সার উৎপাদন শুরু করা যাচ্ছে না।

এর আগে দীর্ঘ গ্যাস সংকট কাটিয়ে ৬ অক্টোবর ভোররাতে কারখানাটিতে আবার ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে কারখানাটি চালু করা হয়।

উৎপাদনে ফেরার পর দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদিত হয়েছে বলে কারখানা সূত্রে জানা গেছে।

দ্রুত উৎপাদনে ফেরানোর চেষ্টা

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বয়লার প্ল্যান্টের ত্রুটি শনাক্ত করে মেরামতের কাজ চলছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে পুনরায় উৎপাদন শুরুর চেষ্টা করছেন প্রকৌশলীরা।

যমুনা সার কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। তবে উৎপাদন পুনরায় শুরুর আগে কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টন সার উৎপাদনের আশা জানিয়েছিল।

বারবার বন্ধ হচ্ছে কারখানা

গ্যাস সংকট ও কারিগরি সমস্যার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েক দফা দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল যমুনা সার কারখানা। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্তও প্রায় ২৩ মাস উৎপাদন বন্ধ ছিল।

পরে উৎপাদন শুরু হলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে আবার কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় আট মাস পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় চলতি সপ্তাহে ফের উৎপাদনে ফিরেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

যমুনা সার কারখানা থেকে বিসিআইসির তালিকাভুক্ত প্রায় ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করা হয়। স্বাভাবিক উৎপাদন চালু থাকলে মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ফলে মাত্র দুই দিনের মাথায় আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা সার সরবরাহ ও কারখানাটির ধারাবাহিক উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন