• বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ | ২ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শনে উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন

নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শনে উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন

খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি
খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮:১৬ ২০ জানুয়ারী ২০২৬

পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় অবস্থিত চতুর্দেশীয় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শনে এসে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনের পর যে নতুন সরকার গঠিত হবে, সেই সরকারের সময়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও ভালো হবে বলে তিনি আশা করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের প্রকৃত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হলে অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়—সে জন্য জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে, যা অত্যন্ত জরুরি।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, সামনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেবে, তাদের সময়েই আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমানে যে সীমিত সমস্যা বা জটিলতা রয়েছে, সেগুলো ধীরে ধীরে সমাধান হয়ে যাবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

সংবাদকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে এম. সাখাওয়াত হোসেন উপমহাদেশের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, প্রতিটি দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন আলাদা। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এক রকম, আবার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভিন্ন বাস্তবতা রয়েছে। তিনি বলেন, সরাসরি সড়কপথে বাংলাদেশ থেকে চীনে যাওয়া বাস্তবসম্মত নয়; সেক্ষেত্রে নেপাল বা ভুটানের পথ ব্যবহার করতে হবে। তবে নেপাল ও ভুটান যদি বন্দর সুবিধা নিতে চায়, তাহলে মংলা বন্দরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ রয়েছে।

স্থলবন্দরের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পুরোপুরি সচল রয়েছে। পাথর আমদানি বন্ধ হয়নি; ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে নিয়মিত পাথর আসছে। ফলে পাথর ব্যবসায়ীদের জন্য এখনো কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। তবে যাত্রী চলাচল কিছুটা কমেছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

তিনি আরও বলেন, যাত্রী চলাচল কমে যাওয়ার বিষয়টি শুধু বাংলাবান্ধা নয়, সারা দেশেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি ভারতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কারণে ভিসা কম দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। ভারতীয় ভিসা সীমিত হওয়ায় বাংলাদেশের দিক থেকেও ভিসা প্রদান স্বাভাবিকভাবে কমে গেছে।

পরিদর্শন শেষে উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়লে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দেশের বাণিজ্য ও যোগাযোগে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/