• বুধবার , ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ বছর পর বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে ইইউ

১৫ বছর পর বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে ইইউ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:২১ ২৯ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বৃহৎ প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এটি হবে ২০০৮ সালের পর ইইউর প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এ তথ্য জানান।

রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ইইউর এই পর্যবেক্ষণ মিশনটি এখনও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে ১৫০ থেকে ২০০ জন সদস্য থাকতে পারেন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ ভোটের প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে, আর বাকিরা ভোটের এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশে পৌঁছাবেন। তিনি বলেন, “২০০৮ সালের পর এই প্রথম ইইউ বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে।” রাষ্ট্রদূত আরও জানান, ভোটের সময় স্থানীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগেও ইইউ সহায়তা করবে।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে উভয়পক্ষ সাংবিধানিক সংস্কার, নির্বাচন প্রস্তুতি, বিচার বিভাগ ও শ্রম খাতের সংস্কার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। রাষ্ট্রদূত মিলার জুলাই জাতীয় সনদকে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে মসৃণ করতে সহায়ক হবে। তিনি সম্প্রতি অনুমোদিত শ্রম আইন সংস্কার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদারের পদক্ষেপগুলোকেও “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” হিসেবে অভিহিত করেন।

‘এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইইউ নির্বাচন কমিশনকে অব্যাহত সহযোগিতা দেবে, যেন ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের এক বড় সুযোগ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। ইইউ বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে উভয়পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করার উপায় নিয়েও আলোচনা করে। আলোচনায় অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির সম্ভাবনা, বিমান ও নৌ পরিবহন খাতে নতুন সুযোগ অনুসন্ধান, এবং মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে সহযোগিতা বিষয়ে একমত হয় উভয় পক্ষ। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জানান, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া টার্মিনালের উন্নয়ন ও পরিচালনায় বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানি এ.পি. মোলার-মায়ার্সক এর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ডেনমার্কভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে, যার মাধ্যমে লালদিয়া টার্মিনালকে এ অঞ্চলের অন্যতম আধুনিক বন্দর সুবিধায় রূপান্তর করা হবে।

বৈঠকে নির্বাচনী পরিবেশ, প্রার্থীদের যোগ্যতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং অবাধ নির্বাচনী প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, ইইউ বিশ্বাস করে—একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও সহনশীল রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও পরিপক্ব করবে এবং দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/