• মঙ্গলবার , ৩০ জুন, ২০২৬ | ১৫ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনার বিচার না হলে জুলাই শহীদদের অবিচার হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

হাসিনার বিচার না হলে জুলাই শহীদদের অবিচার হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:৪৪ ২৩ অক্টোবর ২০২৫

গণহত্যায় অভিযুক্ত শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলার যুক্তিতর্কের শেষ দিনে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “এই মামলার আসামিদের বিচার না হলে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের প্রতি তা হবে চরম অবিচার।”

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) আদালতে চূড়ান্ত দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করেছিলাম শেখ হাসিনা ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন। কারণ, তিনি নিজেই অতীতে বলেছিলেন—‘সাহস থাকলে বিচারের মুখোমুখি হন।’ কিন্তু তিনি সেই সাহস দেখাতে পারেননি। আজ যদি সত্যিই সেই কথাগুলো তিনি অন্তর থেকে বলতেন, তাহলে দেশের মাটিতে এসে বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতেন।”

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, “এই মামলার আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করা না গেলে বাংলাদেশের কোটি মানুষের জীবনে ন্যায়বিচারের বিশ্বাস ভেঙে পড়বে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে ভীরু হয়ে রয়ে যাবে। তাই আমরা তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি।”

বিচারপতি প্যানেল অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের পর বলেন, “ন্যায়বিচার অবশ্যই নিশ্চিত হবে। দুই পক্ষই ন্যায্য বিচার পাবে, আদালত সেই নিশ্চয়তা দিচ্ছে।”

এই মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যা, গুম, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার। মামলায় ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন—এর মধ্যে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তি, চিকিৎসক ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন। সাক্ষ্যগুলোতে উঠে এসেছে জুলাই আন্দোলনের সময়ের নৃশংসতা, গুম ও রাজনৈতিক হত্যার নানা বর্ণনা।

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, এ পর্যন্ত সংগৃহীত সাক্ষ্য, নথি ও প্রমাণাদি পৃথিবীর যেকোনো আদালতে অপরাধ প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। প্রসিকিউশন পক্ষের দাবি—এই মামলার রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হবে, যেখানে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের জয় প্রতিষ্ঠিত হবে।

এদিকে, প্রতিরক্ষা পক্ষ যুক্তি দিয়েছে, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রমাণের ঘাটতি রয়েছে। তবে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে রায়ের জন্য তারিখ নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছে।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনমনে মামলাটি নিয়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষ মনে করছে—এটি ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ; অন্যপক্ষের মতে—এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের কৌশল।

ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানিয়েছে, যুক্তিতর্ক শেষে এখন মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য প্রস্তুত। রায়ের দিন শিগগিরই ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/