• রবিবার , ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ | ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম সিইপিজেডে আল হামিদ টেক্সটাইল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

চট্টগ্রাম সিইপিজেডে আল হামিদ টেক্সটাইল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

নাদিম শরীফ: ঝালকাঠি প্রতিনিধি
নাদিম শরীফ: ঝালকাঠি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৯:৩৬ ১৬ অক্টোবর ২০২৫

১৬ অক্টোবর ২০২৫ (সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হালনাগাদ) — চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) আজ কেঁপে উঠেছে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে। সিইপিজেডের ৫ নম্বর রোডে অবস্থিত পোশাক কারখানা ‘আল হামিদ টেক্সটাইল’ (মতান্তরে অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড)-এ বৃহস্পতিবার দুপুরে ভয়াবহ আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্যমতে, দুপুর ২টার দিকে কারখানার গুদাম অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভবনের বিভিন্ন তলায়।

ঘটনার পরপরই শত শত শ্রমিক ভবন থেকে প্রাণ বাঁচাতে ছুটে বের হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ছয়তলা ওই ভবনে ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী বহু নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একাধিক ইউনিট উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও আগুনের ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে, ভবনের কাছে যাওয়া যাচ্ছিল না।

ফায়ার সার্ভিসের মোট ৯টি ইউনিট, পাশাপাশি নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, র‍্যাব এবং পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। তবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা। আগুন নেভাতে কাজ করছেন কয়েক শ উদ্ধারকর্মী, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিইপিজেড এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনো হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। তবে শ্রমিকরা আশঙ্কা করছেন, কিছু কর্মী এখনো ভবনের ভেতরে আটকা থাকতে পারেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে, এবং চারপাশের কারখানাগুলোকেও নিরাপত্তাজনিত কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের আগে থেকেই ওই কারখানায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শ্রমিক নিয়োগ নিয়ে শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানার কিছু কর্মকর্তা আত্মীয়-স্বজনদের অগ্রাধিকার দিয়ে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন, এবং পরিস্থিতি এক পর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষের সময় কয়েকজন নারী শ্রমিক মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই ঘটনার জেরেই দুপুরে কারখানার কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বা দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে আসায় গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে ফায়ার সার্ভিস বলেছে, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পরই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম সিইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে থেকে উদ্ধারকাজ তদারকি করছে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও তদন্ত কমিটি গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে, যাতে অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা যায়।

চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শ্রমিক নিরাপত্তা এবং কারখানার অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে শিল্প মহলে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/