যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধে তীব্র ওষুধ সংকটে ইরান


প্রকাশিত: ০৩:৩২ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের কারণে ইরানে ওষুধ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জরুরি ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে ইরানের বর্তমান ওষুধ সংকটের এই চিত্র উঠে এসেছে।
ইরানি ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র হাদি আহমাদি জানিয়েছেন, দেশজুড়ে প্রায় ৮০০ ধরনের চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০টি জীবন রক্ষাকারী জরুরি ওষুধ রয়েছে। এছাড়া ঘাটতিতে থাকা প্রায় ৪০০টি ওষুধ ইরানেই উৎপাদিত হতো।
ব্যাপকভাবে বেড়েছে ওষুধের দাম
ওষুধের সংকটের পাশাপাশি ইরানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের দামও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর নিউজের তথ্য অনুযায়ী, মৃগীরোগের ওষুধ গ্যাবাপেন্টিনের দাম গত বছরের তুলনায় ২২০ শতাংশ বেড়েছে। প্যারাসিটামলের দাম বেড়েছে ৩৭৫ শতাংশ, অ্যামোক্সিসিলিন ২৮৫ শতাংশ এবং ফ্লুওক্সেটিনের দাম বেড়েছে ১০০ শতাংশ।
এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইনসুলিনের দাম ছয় গুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওষুধ কারখানা
চলমান যুদ্ধের প্রভাবেও দেশটির ওষুধ উৎপাদন ব্যবস্থা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৪টি ইরানি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এতে অন্তত ৫০ জন শিল্পকর্মী হতাহত হয়েছেন।
ইরানের পেনশন ফান্ডের মালিকানাধীন প্রধান ক্যানসার ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তৌফিক দারু বিমান হামলায় ধ্বংস হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় পরিচালক মরিয়ম ফারাহানি জানান, হামলায় তাদের গবেষণা ও উৎপাদন লাইন ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি গত ২৬ বছরের সংরক্ষিত তথ্য থাকা সার্ভারও নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো পুনরায় আংশিকভাবে চালু করতে কয়েক বছর সময় এবং কোটি কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রাসায়নিক গবেষণার অভিযোগে কারখানাটি ধ্বংসের দাবি করলেও তৌফিক দারু কর্তৃপক্ষ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
জনস্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
ইরানের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের প্রধান মেহেদি পীরসালেহি দাবি করেছেন, সংকট সত্ত্বেও দেশটির ওষুধ খাত ভেঙে পড়বে না।
তবে চিকিৎসকরা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে রোটাভাইরাস ও ইনফ্লুয়েঞ্জার ভ্যাকসিন আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্যের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ওষুধ খাতে সরকারের প্রায় ৮ কোয়াড্রিলিয়ন রিয়াল (প্রায় ৩ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার) বকেয়া ঋণ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, সরবরাহ সংকট, মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদন অবকাঠামোর ক্ষতি একসঙ্গে দীর্ঘায়িত হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - আন্তর্জাতিক
- আশুলিয়ায় আওয়ামী লীগের আতাল এখন বিএনপি নেতা
- দুই ভাই-বোন চেয়ারম্যান, বাড়ছে দুই প্রাইভেট ব্যাংকের খেলাপি ঋণ
- মিরপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের
- ঘরে বসেই বিনামূল্যে উপভোগ করুন পপ কুইন শাকিরার লাইভ কনসার্ট
- থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জরুরি অবস্থা জারি, আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত রাজধানী
- সালমান শাহের অসমাপ্ত সিনেমায় বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে চেয়েছিলেন আমিন খান
- এলপিজি সংকটে ভোগান্তি, ১,৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি ২,২০০ টাকায়
- রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কারে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা জামায়াতের
- বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ম্যাচ পরিত্যক্ত, সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান
- স্টারশিপ প্রথমবার কক্ষপথে, ২৬ স্যাটেলাইট স্থাপনের পর সাগরে বিস্ফোরণ
- মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে স্বস্তি নেই, বেকায়দায় নিম্নবিত্তরা
- এআই জগতের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করল টাইম
- নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আবার বাড়ল, ১০ শলাকা এখন ৬৫ টাকা
- ৩৫০ রানে অপরাজিত হৃদয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস
- ইরানে ফের মার্কিন হামলা, নিহত ১৮ ও আহত ১৪২
- প্রধানমন্ত্রীকে গালিগালাজের অভিযোগে গ্রেপ্তার সিফাতকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ
- প্রেম, অভিমান আর ‘আকাশের ঠিকানায় চিঠি’: রুদ্র–তসলিমার অজানা গল্প
- গানে বাজিমাত BUP-এর, সাউথইস্ট Cultural Fest 3.0-তে প্রথম রানারআপ
- বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ এলজিআরডি মন্ত্রীর



