• মঙ্গলবার , ২৩ জুন, ২০২৬ | ৯ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের চেয়ে তুরস্কই ইসরায়েলের বড় দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ: হিব্রু সংবাদপত্র

ইরানের চেয়ে তুরস্কই ইসরায়েলের বড় দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ: হিব্রু সংবাদপত্র

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:১২ ২৩ জুন ২০২৬

ইসরায়েলের নিরাপত্তা ভাবনায় ইরানের পাশাপাশি এবার তুরস্ককেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভ-এ প্রকাশিত এক সামরিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আঙ্কারার সামরিক আধুনিকায়ন, প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বনির্ভরতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার ইসরায়েলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় কৌশলগত উদ্বেগ তৈরি করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্ক বর্তমানে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী। একই সঙ্গে দেশটি গত দুই দশকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে। ন্যাটো মহাসচিবও ২০২৪ সালে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, তুরস্ক এখন সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বনির্ভর। দেশটির বিদেশি সামরিক আমদানির ওপর নির্ভরতা ২০০৪ সালের প্রায় ৮০ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে প্রায় ২০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অগ্রগতির ফলে তুরস্ক শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগর, সিরিয়া, লিবিয়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রাজনীতিতেও আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের এই উত্থান ইসরায়েলের জন্য সামরিক ও ভূরাজনৈতিক দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে।

ইসরায়েল ও তুরস্কের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমেই খারাপ হয়েছে। গাজা যুদ্ধ, সিরিয়া পরিস্থিতি, পূর্ব ভূমধ্যসাগর এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এরদোয়ান সম্প্রতি ইসরায়েলের সিরিয়া ও লেবাননে হামলাকে তুরস্কের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের সম্ভাবনা এখনই বড় নয়। বরং দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেশি দেখা যাচ্ছে কূটনীতি, সামরিক প্রস্তুতি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং নিরাপত্তা জোটের ক্ষেত্রে।

মারিভ-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের কাছে ইরান এখনও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ইস্যু। তবে তুরস্কের সামরিক শক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আঙ্কারাকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নতুনভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে তুরস্কের ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে। আর সেই কারণেই ইসরায়েলের নিরাপত্তা আলোচনায় তুরস্ক এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/