• শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ | ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একের পর এক মার্কিন পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিখোঁজ, নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

একের পর এক মার্কিন পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিখোঁজ, নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭:০২ ১৭ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক, মহাকাশ ও উচ্চ-গোপন গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীদের একের পর এক রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯ থেকে ১০ জন ব্যক্তি—যারা পারমাণবিক গবেষণা, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং উচ্চ-নিরাপত্তা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—নিখোঁজ হয়েছেন বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। এসব ঘটনার কয়েকটি এখনো অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, “আমরা শিগগিরই এই রহস্যের স্পষ্ট উত্তর পেতে পারি।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে এবং আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই অগ্রগতি জানা যেতে পারে।

ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিছু খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী এতে জড়িত ছিলেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”

অন্যদিকে, প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এখনও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেননি, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনাগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি এবং এমআইটির প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড ফিউশন সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা।

তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও কিছু বিশেষজ্ঞ এই ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সংগঠিত সম্পর্ক রয়েছে—এমন দাবি এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী অ্যাভি লোয়েব বলেন, “প্রতিটি ঘটনাই আলাদাভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। এখনই এটিকে কোনো সমন্বিত ষড়যন্ত্র বলা যাবে না।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ-নিরাপত্তা গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতি জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করতে পারে। সাবেক এফবিআই কর্মকর্তাদের কেউ কেউ সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তি বা টার্গেটেড অপহরণের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

এদিকে, ২০২৩ সাল থেকে ধারাবাহিক এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা মহলে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এখনও বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/