• শুক্রবার , ১৩ মার্চ, ২০২৬ | ২৯ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের ১৫টির বেশি দেশ নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ

বিশ্বের ১৫টির বেশি দেশ নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৩২ ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারতসহ বিশ্বের ১৫টিরও বেশি দেশ তাদের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে।

জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাঁচ দফা পরমাণু সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর এই সংঘাত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ একটি জরুরি বিবৃতিতে হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে পুরো দেশজুড়ে ‘বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন।

উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে গত শুক্রবার, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফল নিয়ে তার অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দফা সংলাপে তেহরানের ইউরেনিয়াম মজুত এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প নিয়ে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এই ব্যর্থতার পর ট্রাম্প প্রশাসন ইঙ্গিত দেয় যে, কূটনৈতিক পথ ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

এর আগে জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরী এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিল। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, কিছু ছোটখাটো বিষয়ে সমঝোতা হলেও মূল বিরোধপূর্ণ বিষয়ে ইরান কোনো ছাড় দিতে রাজি হয়নি, যা ট্রাম্প প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে বাধ্য করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলার জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি, জার্মানি, কানাডা, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ তাদের দূতাবাস কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বা বিকল্প পথে ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে, আকাশসীমা ও স্থলপথে যাতায়াত যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় এই জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং বহু দেশ তাদের যাত্রীবাহী বিমানের রুট পরিবর্তন করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস অভিযানে অংশ নিতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে, এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বিশ্বসংস্থা উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইসরায়েলি পক্ষের দাবি, হামলা শুরু হয়ে যাওয়ায় এখন যুদ্ধের বিস্তার রোধ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/