• শনিবার , ০১ আগস্ট, ২০২৬ | ১৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে অন্যরকম হাট: যেখানে প্রতিদিন বিক্রি হয় মানুষের শ্রম

ময়মনসিংহে অন্যরকম হাট: যেখানে প্রতিদিন বিক্রি হয় মানুষের শ্রম

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:১৫ ১ আগস্ট ২০২৬

ভোরের আলো পুরোপুরি ফোটার আগেই ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা মহিলা কলেজ মোড়ে প্রতিদিন জড়ো হতে থাকেন শত শত মানুষ। কারও হাতে কোদাল, কারও হাতে বেলচা, আবার কেউ শুধুই দাঁড়িয়ে কাজের প্রতীক্ষায়। এটি কোনো প্রচলিত পণ্য বা পশুর হাট নয়, এটি মূলত অনানুষ্ঠানিক 'শ্রমের হাট'। সূর্য ওঠার সাথে সাথে সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এই হাটে নিজেদের কায়িক শ্রম বিক্রি করতে আসেন রাজমিস্ত্রি, নির্মাণশ্রমিক, কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুরেরা।

ত্রিশাল কলেজ মোড়ের পাশাপাশি ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া এলাকাতেও প্রতিদিন ভোরে একই চিত্র দেখা যায়। ঠিকাদার, বাড়ির মালিক বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এই হাটে এসে সরাসরি দরদাম করে প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক ভাড়া করে নিয়ে যান। বর্তমানে একজন সাধারণ শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে অভিজ্ঞ শ্রমিকরা কিছুটা বেশি মজুরি পান। অল্প সময়ের মধ্যে কাজ এবং শ্রমিক—দুইয়ের সুবিধার্থেই হাটটি বেশ জনপ্রিয়।

তবে নিত্যদিনের এই আয়ের বাজারে কাজের কোনো স্থায়ী নিশ্চয়তা নেই। বছরের বিশেষ কিছু সময় যেমন ধান কাটা বা বোরো মৌসুমে কাজের চাহিদা বাড়লেও বর্ষার দিনে নির্মাণকাজ কমে গেলে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। যেসব দিনমজুর প্রতিদিনের কাজের ওপর নির্ভর করে সংসার চালান, একদিন কাজ না পেলে তাদের চুলায় আগুন জ্বলাও দায় হয়ে পড়ে। ফলে কোনো কাজ না পেয়ে خالی হাতে বাড়ি ফেরার অনিশ্চয়তাই এদের নিত্যসঙ্গী।

দেশের অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের এই করুণ চিত্র দিনমজুরদের জীবন সংগ্রামের এক নির্মম বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে। স্থায়ী চাকরি বা সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা না থাকায় ২০ থেকে ৬০ বছর বয়সী নানা পেশার মানুষকে পেটের তাগিদে প্রতিদিন এ হাটে দাঁড়াতে হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভাগ্যক্রমে যারা কাজ পান তারা ছোটেন কর্মস্থলে, আর বাকিরা পরদিন ভোরে আবারও এই হাটে ফেরার আশায় ভারাক্রান্ত মনে ঘরে ফিরে যান।

বিজ্ঞাপন