• শনিবার , ২৩ মে, ২০২৬ | ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ের পরও ধর্ষণ মামলা থেকে রেহাই নেই নোবেলের, আদালতে দাখিল অভিযোগপত্র

বিয়ের পরও ধর্ষণ মামলা থেকে রেহাই নেই নোবেলের, আদালতে দাখিল অভিযোগপত্র

বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬:০০ ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে বাসায় আটকে রেখে ধর্ষণ, নির্যাতন ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে গায়ক নোবেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। গত ২৯ নভেম্বর ডেমরা থানার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মুরাদ হোসেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেন।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) ইলামনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগামী ২৮ ডিসেম্বর আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্রটি উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে।

মামলার পটভূমিতে জানা যায়, গত ১৯ মে ইডেন কলেজের ওই ছাত্রী নোবেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর নোবেলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে বিয়ের শর্তে তিনি জামিন পান। এরপর গত ১৯ জুন ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে নোবেল ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেন।

নোবেলের আইনজীবী মোসতাক আহমেদ দাবি করেছেন, যেহেতু নোবেল মামলার বাদীকে বিয়ে করে বর্তমানে সংসার করছেন, তাই অভিযোগপত্রে তার তেমন কোনো সমস্যা হবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিচারিক ট্রাইব্যুনালে বাদী আপসনামা দিলে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে নোবেল খালাস পাবেন।

তবে অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। এতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে নোবেলের সঙ্গে ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর স্টুডিও দেখানোর কথা বলে নোবেল তাকে ডেমরার বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে আটকে রাখা হয়, মোবাইল ফোন ও টাকা কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয় এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করা হয়। কথামতো না চললে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রায় ছয় মাস ধরে ওই ছাত্রীকে ডেমরার ওই বাসায় আটকে রাখা হয়েছিল এবং নিয়মিত মারধরের শিকার হতে হয়। কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় নোবেল তাকে চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে একটি কক্ষে আটকে রাখতেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

একপর্যায়ে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগীর বাবা-মা তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। পরে পরিবারের সহযোগিতায় এবং পুলিশের সহায়তায় ১৯ মে তাকে উদ্ধার করা হয়। ওইদিনই পুলিশ নোবেলকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, বাদীর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। নোবেল বাদীকে আটক রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন এবং সেই ভিডিও মোবাইলে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। বাসায় না থাকলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিভিন্ন সময় মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, বাদীকে মারধর ও ধর্ষণের ঘটনায় নোবেলের সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগী জড়িত ছিলেন। তবে তদন্তকালে তাদের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে তাদের পরিচয় পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

সব মিলিয়ে বিয়ের পরও নোবেলের বিরুদ্ধে আনা গুরুতর অভিযোগ আদালতে গড়াচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়—তা নির্ভর করবে বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/