• শুক্রবার , ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ | ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গারোদের ঐতিহ্যবাহী ওয়াংগালা উৎসব: কৃতজ্ঞতার নৃত্য ও সংস্কৃতির উচ্ছ্বাস

গারোদের ঐতিহ্যবাহী ওয়াংগালা উৎসব: কৃতজ্ঞতার নৃত্য ও সংস্কৃতির উচ্ছ্বাস

নেহাল আহমেদ: বিশেষ প্রতিনিধি রাজবাড়ী
নেহাল আহমেদ: বিশেষ প্রতিনিধি রাজবাড়ী

প্রকাশিত: ১০:২৫ ১৭ অক্টোবর ২০২৫

গারো সম্প্রদায় তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে অনন্য। ভারতের মেঘালয় ও বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে বসবাসরত এই সম্প্রদায়ের প্রধান দেবতা মিশি সালজং (Misi Saljong) — যাকে তারা সৃষ্টিকর্তা, জীবনদাতা ও ফসলের অভিভাবক হিসেবে পূজা করে। গারোদের বিশ্বাস, তিনি প্রকৃতি ও মানব জীবনের কল্যাণে আশীর্বাদ প্রদান করেন।

গারোরা প্রকৃতিকে দেবতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে মানে। গ্রামাঞ্চলে নির্দিষ্ট স্থানে তাঁরা দেবতার নিবাস হিসেবে পূজা করে, যেখানে গান, নৃত্য ও প্রার্থনার মাধ্যমে ভক্তি প্রকাশ করা হয়। এই আচার তাঁদের সামাজিক বন্ধন, নৈতিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে দৃঢ় রাখে।

গারোদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হলো ওয়াংগালা, যা “শত ড্রামস উৎসব” নামেও পরিচিত। এটি মিশি সালজং-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রতীক, বিশেষ করে ফসল কাটার পর। সাধারণত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আনন্দ, সংগীত ও নৃত্যে ভরে ওঠে পুরো গ্রাম।

প্রথম দিন উৎসবের সূচনায় গ্রামের প্রধান নোকমা চাল, শাকসবজি ও রাইস বিয়ার (চু) দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন। এটি মিশি সালজং-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রার্থনার অংশ।

দ্বিতীয় দিন থেকেই শুরু হয় আনন্দের উৎসব। পুরুষ ও নারী ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে ঢাক-ড্রামের তালে তালে নৃত্য ও গান পরিবেশন করেন। শতাধিক ড্রামের তাল মিশে যায় মানুষের উল্লাসে, যা পুরো পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

ওয়াংগালা উৎসব শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি গারোদের সামাজিক ঐক্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আনন্দমুখর জীবনের প্রতিফলন। এই উৎসব প্রমাণ করে — প্রকৃতি, ধর্ম ও মানুষ একসঙ্গে চললে জীবন আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/