• শনিবার , ১৮ জুলাই, ২০২৬ | ৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃদ্ধকে কুপিয়ে মোটরসাইকেল, টাকা ও স্বর্ণের আংটি ছিনতাইয়ের

বৃদ্ধকে কুপিয়ে মোটরসাইকেল, টাকা ও স্বর্ণের আংটি ছিনতাইয়ের

শাকিল আহমেদ: নড়াইল প্রতিনিধি
শাকিল আহমেদ: নড়াইল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৫:৩৯ ১৮ জুলাই ২০২৬

আহত ব্যক্তির নাম নুর জালাল মোল্যা (৬৫)। তিনি লোহাগড়া উপজেলার নলদি ইউনিয়নের জালালসী গ্রামের মৃত ইউসুফ মোল্যার ছেলে।

ভুক্তভোগী নুর জালাল মোল্যা জানান, ছিনতাইয়ের ঘটনায় নলদি ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের মো. আশিক হোসেন, মো. রাজু মুসল্লী এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে তিনি লোহাগড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই বেলা আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে নুর জালাল মোল্যা নিজের মাছের ঘেরের কাজ শেষ করে মোটরসাইকেলযোগে নড়াইল শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিলের মধ্যে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর গতিরোধ করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করে এবং তাঁর কাছে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলটি নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর হাতে আঘাত করা হয়। আঘাতটি তাঁর ডান হাতের আঙুলে লাগলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। এরপর অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলটি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ঘটনার পর নুর জালাল মোল্যা তাঁর ভাই মঞ্জুর হোসেন মোল্যার সহায়তায় নড়াইল সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন।

আহত নুর জালাল মোল্যা বলেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর আগে কোনো বিরোধ ছিল না। তাঁর দাবি, হামলাকারীদের আচরণ দেখে তাঁদের মাদকাসক্ত বলে মনে হয়েছে। মাদকের টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তাঁর ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।

তিনি আরও জানান, গত ১৬ জুলাই নলদি পুলিশ ফাঁড়ি থেকে উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।

নুর জালাল মোল্যা বলেন, “মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হলেও অভিযুক্তদের আটক করা হয়নি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য নলদি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “যতদূর জানতে পেরেছি, নলদি ফাঁড়ি পুলিশ দ্রুত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে। ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

নলদি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আজিজ বলেন, লোহাগড়া থানার ওসির নির্দেশ পাওয়ার পর পুলিশ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। গত ১৬ জুলাই ভুক্তভোগী ফাঁড়ি থেকে মোটরসাইকেলটি নিয়ে গেছেন।

তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বাদীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ থাকার কথা উল্লেখ করেন। বাদীর বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ রয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।

ঘটনার পর মোটরসাইকেল উদ্ধার হলেও অভিযুক্তদের কেউ আটক না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন