• শুক্রবার , ০৮ মে, ২০২৬ | ২৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধামরাইয়ে বেড়াতে আসা মুসলিম গৃহবধূকে স্বামীকে বেঁধে হিন্দু যুবকদের হাতে রাতভর গণধর্ষণ

ধামরাইয়ে বেড়াতে আসা মুসলিম গৃহবধূকে স্বামীকে বেঁধে হিন্দু যুবকদের হাতে রাতভর গণধর্ষণ

সজিব হোসেন: মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
সজিব হোসেন: মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪:২৯ ২০ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার ধামরাইয়ে বেড়াতে এসে এক মুসলিম গৃহবধূ (২৫) সংঘবদ্ধ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবন গ্রামের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। অভিযোগে বলা হয়, ওই নারীর স্বামীকে অস্ত্রের মুখে গাছের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে সারারাত ধরে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং একই সঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মানিকগঞ্জের বাসিন্দা এবং ধামরাইয়ের পাবরাইল এলাকায় অবস্থিত ‘এনডি কনস্ট্রাকশন ফার্ম’-এর গাড়িচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক তার স্ত্রীকে নিয়ে বালিয়াটি প্রাসাদে বেড়াতে যান। তাদের সঙ্গে ছিলেন একই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী ও রামরাবন গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণ চন্দ্র মনিদাস। সারাদিন ঘোরাঘুরির পর সন্ধ্যায় কৃষ্ণ চন্দ্র তাদের নিজ এলাকায় নিয়ে যান। পরে মন্দির প্রাঙ্গণে পৌষ পার্বণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান দেখার পর রাত হয়ে যাওয়ায়, কৃষ্ণ চন্দ্রের বোন শান্তি রানী মনিদাসের বাড়িতে তাদের রাতযাপনের ব্যবস্থা করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ৫–৭ জন যুবক দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। তারা আব্দুর রাজ্জাককে হত্যার হুমকি দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ফেলে এবং তার সামনেই পালাক্রমে তার স্ত্রীকে নির্যাতন করে। এ সময় গৃহবধূর কানের দুল, গলার চেইন ও হাতের বালাসহ মোট সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী দম্পতি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে বিচার দাবি করতে গেলে উল্টো হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের একটি অংশের বিরুদ্ধে লাঠিপেটা ও হত্যার হুমকি দিয়ে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন তারা। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে বালিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মন্টু চন্দ্র মনিদাস বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাননি এবং অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ধামরাই থানার এএসআই হারাধন সরকার জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন; তবে সেখানে ভুক্তভোগী বা অভিযুক্ত কাউকেই পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটির অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/