• বৃহস্পতিবার , ০৬ আগস্ট, ২০২৬ | ২২ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের জীবনী, শিক্ষা ও রাজনৈতিক জীবন

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের জীবনী, শিক্ষা ও রাজনৈতিক জীবন

মোরনিউজ ডেস্ক
মোরনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৪৩ ৬ আগস্ট ২০২৬

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বাংলাদেশের একজন রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, লেখক ও সমাজকর্মী। ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পটুয়াখালী-২ বা বাউফল আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শিক্ষা, রাজনীতি, সামাজিক কার্যক্রম এবং নিজ এলাকার উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কারণে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেছেন।

একনজরে শফিকুল ইসলাম মাসুদ

বিষয়তথ্য
পূর্ণ নামড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম মাসুদ
পরিচিত নামড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ
জন্মতারিখ১ মার্চ ১৯৭৮
জন্মস্থানপটুয়াখালী, বাংলাদেশ
পিতাঅধ্যাপক সিরাজ উদ্দীন খান
মাতাকানিজ ফাতিমা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষাগত যোগ্যতাবাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স, মাস্টার্স ও পিএইচডি
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
নির্বাচনী আসনপটুয়াখালী-২, বাউফল
সংসদ সদস্য নির্বাচিত২০২৬
সাবেক দায়িত্ববাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি
বর্তমান সাংগঠনিক পরিচয়জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি

শফিকুল ইসলাম মাসুদের জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ১৯৭৮ সালের ১ মার্চ পটুয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা অধ্যাপক সিরাজ উদ্দীন খান শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রকাশিত জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, তিনি ধুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং তৎকালীন বাউফল কলেজের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁর মায়ের নাম কানিজ ফাতিমা। শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন পারিবারিক পরিবেশে শফিকুল ইসলাম মাসুদের শৈশব ও কৈশোর অতিবাহিত হয়।

তাঁর স্ত্রী ডা. জাকিয়া ফারহানা একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। অফিসিয়াল জীবনবৃত্তান্তে তাঁদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম মাসুদের শিক্ষাজীবন

শফিকুল ইসলাম মাসুদ ছোটবেলা থেকেই মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, তিনি পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন এবং জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিএ অনার্স এবং এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি বা ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

পেশাগত জীবন

অফিসিয়াল জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করা হয়েছে, শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি গবেষণা ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পাবলিকেশন্স লিমিটেডের প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের কারণে লেখালেখি, গবেষণা, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রতিও তাঁর আগ্রহ রয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে ধর্ম, শিক্ষা, সমাজ, রাজনীতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখা বিভিন্ন নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

ছাত্ররাজনীতিতে শফিকুল ইসলাম মাসুদ

শফিকুল ইসলাম মাসুদের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা ছাত্রজীবনে। তিনি ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত হন বলে তাঁর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারভিত্তিক জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে।

১৯৯৬ সালে তিনি সংগঠনটির সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

২০০২ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন। এরপর কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদকসহ সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ২০০৪ ও ২০০৫ সেশনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল এবং ২০০৬ ও ২০০৭ সেশনে কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে দায়িত্ব

ছাত্ররাজনীতির পর শফিকুল ইসলাম মাসুদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দলীয় ও ব্যক্তিগত অফিসিয়াল সূত্রে তাঁকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংগঠনিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচি, শিক্ষা কার্যক্রম, জনসচেতনতা, সমাজকল্যাণ এবং দলীয় প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন।

পটুয়াখালী-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচন

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে পটুয়াখালী-২ বা বাউফল আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৮ হাজার ৪৩৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শহিদুল আলম তালুকদার ৭২ হাজার ১৯১ ভোট পান।

এই বিজয়ের মাধ্যমে শফিকুল ইসলাম মাসুদ পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেন।

সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শফিকুল ইসলাম মাসুদ বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর অফিসিয়াল জীবনীতে তাঁকে বাউফল উন্নয়ন ফোরাম এবং বাউফল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি পটুয়াখালী জেলা ফোরামের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

এসব সংগঠনের মাধ্যমে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তা, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান এবং সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রকাশনায় উল্লেখ রয়েছে।

পুরস্কার ও সম্মাননা

প্রকাশিত জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, ছাত্রজীবনে শফিকুল ইসলাম মাসুদ কোরআন তেলাওয়াত, আজান, সংবাদ পাঠ, উপস্থিত বক্তৃতা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক পেয়েছেন বলে তাঁর অফিসিয়াল জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সফর

সাংগঠনিক দায়িত্ব ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য তিনি সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন বলে তাঁর প্রকাশিত জীবনী ও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া তিনি পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব সফর করেছেন।

লেখালেখি ও চিন্তাধারা

শফিকুল ইসলাম মাসুদ রাজনীতি, ধর্ম, সমাজ, শিক্ষা এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেন। তাঁর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার, যুবসমাজের দায়িত্ব, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে বিভিন্ন নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য ও লেখায় নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, যুবসমাজের চরিত্র গঠন এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ কেন পরিচিত?

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রধানত কয়েকটি কারণে পরিচিত:

  • বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে;
  • বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে;
  • ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে;
  • বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষাবিদ হিসেবে;
  • বাউফলের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে;
  • ২০২৬ সালে পটুয়াখালী-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কারণে।

উপসংহার

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের জীবনী শিক্ষা, ছাত্ররাজনীতি, দলীয় নেতৃত্ব, সমাজকল্যাণ এবং জাতীয় রাজনীতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা হয়েছেন।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ভবিষ্যতে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা, সংসদীয় কার্যক্রম এবং বাউফলের উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপের ওপর তাঁর জনপরিচিতি ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন অনেকাংশে নির্ভর করবে।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন

শফিকুল ইসলাম মাসুদ কে?

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা এবং পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য।

শফিকুল ইসলাম মাসুদের জন্ম কবে?

তিনি ১ মার্চ ১৯৭৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

শফিকুল ইসলাম মাসুদের জন্মস্থান কোথায়?

তিনি বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

শফিকুল ইসলাম মাসুদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?

তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স, মাস্টার্স এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি কি ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন?

হ্যাঁ। তিনি ২০০৬ ও ২০০৭ সেশনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ কোন আসনের সংসদ সদস্য?

তিনি পটুয়াখালী-২ বা বাউফল আসন থেকে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হন।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য?

তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

বিজ্ঞাপন