• শুক্রবার , ০১ মে, ২০২৬ | ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংক ডাকাতদের কারণে পিছিয়ে পড়েছে কক্সবাজার:ডা. শফিকুর রহমান

ব্যাংক ডাকাতদের কারণে পিছিয়ে পড়েছে কক্সবাজার:ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬:১৬ ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কক্সবাজারের মতো সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চল কেন সিঙ্গাপুরের মতো আধুনিক নগরীতে পরিণত হতে পারেনি—এর প্রধান কারণ ব্যাংক ডাকাত ও অর্থপাচারকারীরা। পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে পর্যটনের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কক্সবাজারকে একটি আধুনিক পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা হবে। একই সঙ্গে এখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “রাজার ছেলে রাজা হবে—এই পুরোনো রাজনীতি আমরা চাই না। দেশ গড়তে হলে মেধাবীদের এগিয়ে আসার সুযোগ দিতে হবে। আমরা একটি ইনসাফপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন হলো জুলাই বিপ্লবের স্বপ্ন বাস্তবায়নের নির্বাচন। এই নির্বাচন আগের কোনো নির্বাচনের মতো নয়। ডাকসু থেকে জকসু পর্যন্ত তরুণ সমাজ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—তারা আর বস্তাপচা ও পুরোনো রাজনীতির সঙ্গে নেই।

১১ দলীয় জোটের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ঋণখেলাপিদের পৃষ্ঠপোষকতা করে কখনোই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হবেন জনগণের সেবক। শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে কেউ অনুতপ্ত হয়ে মূলধারায় ফিরতে চাইলে তাকে সুযোগ দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান কক্সবাজারের তিনটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় এবং এই পরিবর্তনের সূচনা হবে উখিয়া–টেকনাফ থেকে।
কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুর বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে দেশ লুটপাট, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ লুটপাট ও দুর্নীতিমুক্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান, জেলা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন ফারুকী, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কাসেম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে মহেশখালীতে হেলিকপ্টারযোগে অবতরণ করে পৌরসভার গোরকঘাটা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন জামায়াতের আমির। বিকেলে চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলার পদুয়ায় আয়োজিত আরেকটি জনসভায় তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/