• সোমবার , ২৪ আগস্ট, ২০২৬ | ৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নতুন জোট নেতৃত্বে এনসিপি

জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নতুন জোট নেতৃত্বে এনসিপি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:০৫ ২৯ অক্টোবর ২০২৫

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন এক রাজনৈতিক জোট। আলোচিত এই জোটটি বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে নয়, বরং জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়কদের উদ্যোগে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতৃত্বেই আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদসহ মোট নয়টি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত এই জোট আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছে।

দলগুলোর শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যে একাধিক দফা বৈঠক করেছেন এবং সবশেষ আলোচনাগুলো ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানা গেছে। দ্রুতই অমীমাংসিত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন জোট ঘোষণা করা হবে বলে সূত্রে জানা যায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়কদের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল। দলটির সঙ্গে বিএনপি বা জামায়াতের জোট গঠনের গুঞ্জন শোনা গেলেও, এখন তা পুরোপুরি ভিন্ন মোড় নিয়েছে। একইভাবে, ২০২০ সালে জামায়াতে ইসলামী থেকে সংস্কারপন্থি হিসেবে আলাদা হওয়া এবি পার্টি নিয়েও বিএনপি জোটে যাওয়ার আলোচনা থাকলেও সেটিও এখন বাস্তবতা হারাচ্ছে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু জানিয়েছেন, “আমরা বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে কোনো জোট করছি না। বরং এনসিপি ও জুলাই আন্দোলনের পক্ষে থাকা নয়টি দল নিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছি। ইতোমধ্যে দুই দফা ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে, এবং অল্প কিছু বিষয় চূড়ান্ত করলেই ঘোষণা দেওয়া হবে।”

তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন জোটে বাম ও প্রগতিশীল ঘরানার ছয়টি রাজনৈতিক দল— ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’-এর অন্তর্ভুক্ত। দলগুলো হলো নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি এবং জেএসডি। এর বাইরে বাকি তিনটি দল হলো জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি এবং গণ অধিকার পরিষদ। এতে স্পষ্ট, নতুন জোটটি কেবল ইসলামপন্থি বা ঐতিহ্যবাহী বিরোধী জোট নয়, বরং বাম, প্রগতিশীল ও নতুন ধারার দলগুলোকে একত্রিত করছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমীন এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নূর ক্যামেরার সামনে এখনই বিস্তারিত খোলাসা করতে না চাইলেও, তারা উভয়েই জোট গঠনের বিষয়ে আশাবাদী। তাদের মতে, এই উদ্যোগ রাজনীতিতে নতুন দিক উন্মোচন করবে, যা প্রথাগত দুই দলের বাইরে বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, “ভোটকেন্দ্রিক রাজনীতিতে নতুন জোটের উত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যদি তারা সংগঠিতভাবে মাঠে নামতে পারে, তাহলে বড় দলগুলোর জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।”

বিজ্ঞাপন