• মঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট, ২০২৬ | ২ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘রেইনবো নেশন’ গড়ার অঙ্গীকার বিএনপির, বললেন মির্জা ফখরুল

‘রেইনবো নেশন’ গড়ার অঙ্গীকার বিএনপির, বললেন মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২১ ২৫ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সকল জাতিগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি “রেইনবো নেশন” গড়ে তোলা হবে। অর্থাৎ এমন একটি বাংলাদেশ যেখানে প্রত্যেক সম্প্রদায় তাদের অধিকার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে গর্ব করতে পারবে এবং রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বনানী বিদ্যা নিকেত স্কুল ও কলেজ মাঠে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গারো সম্প্রদায়ের ‘ঢাকা ওয়ানগালা উৎসব–২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘ঢাকা ওয়ানগালা কমিটি’।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব ২০২২ সালে যে ৩১ দফা ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে আমরা একটি রেইনবো নেশন তৈরি করব। অর্থাৎ এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে সব সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং সবাই নিজেদের অবদান রাখতে পারবে। আগামীতে বিএনপি সরকারে এলে আপনাদের সমস্যাগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঘোষিত “ভিশন ২০৩০”-এ সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তাদের সমস্যার সমাধানের জন্য একটি পৃথক অধিদপ্তর গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ঢাকায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য পৃথক সাংস্কৃতিক একাডেমি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারিভাবে গারোদের ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়ানগালা উৎসব’ পালনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের মূল যে রাজনৈতিক ধারা—বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ—তা শুধু বাঙালি নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই প্রথম এই ভাবনাকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, দেশের প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠী যেন নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবে গর্ববোধ করে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “বিএনপির দায়িত্ব হচ্ছে সকল সম্প্রদায়কে একসূত্রে গাঁথা এবং তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে তাদের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি যেন টিকে থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা।”

অনুষ্ঠানে গারো সম্প্রদায়ের সদস্যরা ঐতিহ্যবাহী নাচ ও না-গান পরিবেশন করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকায় বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা অংশ নেন।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি আবারও ইঙ্গিত দিল যে, তারা ভবিষ্যতে বহুমাত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির পার্থক্য নয়—বরং ঐক্য ও সহযোগিতাই হবে জাতীয় শক্তির ভিত্তি।
 

বিজ্ঞাপন