• মঙ্গলবার , ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ | ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন না, আশঙ্কা তথ্য উপদেষ্টার

শেখ হাসিনা সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন না, আশঙ্কা তথ্য উপদেষ্টার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:০২ ৩ নভেম্বর ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর দাবি, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করেও দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে আছেন, তত দিন সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তবে নাশকতার চেষ্টা চালানো হলেও এর মাধ্যমে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পথ সুগম হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকেরা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁদের সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই মজুরি কমিশন গঠন করেছে।

তিনি জানান, পোশাকশ্রমিকদের মজুরি সাধারণত পাঁচ বছর পরপর পর্যালোচনা করা হয়। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে মজুরি পর্যালোচনা হয়েছে। এরপরও শ্রমিকদের স্বার্থে সরকার নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।

আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার বিষয়ে জাহেদ উর রহমান দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী এসব ঘটনার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, দলটি বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে বলে সরকার মনে করে না। তবে তাদের কাছে বিপুল অর্থ রয়েছে বলে দাবি করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সেই অর্থ ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে নাশকতার চেষ্টা হতে পারে। এসব ঘটনার সঙ্গে ডিসেম্বরের কোনো নির্দিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।

আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার আগের মতো বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিক্ষোভ দমন করতে চায় না। আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণেরাও দেশের নাগরিক। তাই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চলছে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি জানান, সরকার তাঁকে ফিরিয়ে আনতে চায়। তিনি স্বেচ্ছায় ফিরুন কিংবা তাঁকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক, সরকারের অবস্থান একই। তবে পাসপোর্টসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার বিষয়ে আগাম কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে চাননি তিনি।

পুলিশের শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আইন মেনে পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা নিতে হবে। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের আগের চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে সর্বনিম্ন ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

চলমান পরিস্থিতি অল্প সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।

বিজ্ঞাপন