• রবিবার , ০১ নভেম্বর, ২০২৬ | ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাহসিফ হত্যা মামলা: বন্ধু দীপের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ, গ্রেপ্তার বারের তরুণীও

তাহসিফ হত্যা মামলা: বন্ধু দীপের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ, গ্রেপ্তার বারের তরুণীও

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৪২ ১ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। হত্যাকাণ্ডে তাঁর বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে ‘দিশা’ নামে এক তরুণীকেও গ্রেপ্তার করেছে নৌপুলিশ। দীপকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।

টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ আহমেদ জানান, শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে অভিযান চালিয়ে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন আদালত দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর মধ্যরাত থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নৌপুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় দীপের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত তাহসিফের সঙ্গে ছিলেন দীপ। তাঁরা একসঙ্গে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান। পরে দীপ একা ফিরে এলেও তাহসিফের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপের বক্তব্যেও অসংগতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে আটক করে পিবিআই। পরে শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এরপর দীপকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে নিখোঁজ হন ২৮ বছর বয়সী তাহসিফ। পরদিন বুধবার বিকেলে টঙ্গীর রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ।

তাহসিফের বাবা জানিয়েছেন, দীপ তাঁদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। কিন্তু ঘটনার পর দীপ তাঁকে জানিয়েছিলেন, তাহসিফকে বাসার চত্বরে নামিয়ে দিয়ে গেছেন। পরে পিবিআইয়ের কাছে তাঁদের টঙ্গীতে যাওয়ার তথ্য স্বীকার করার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। বক্তব্যের এই পার্থক্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন