মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর, এখনো কাঁদায় সেই ভয়াবহ স্মৃতি


প্রকাশিত: ১০:৫৩ ২২ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। ভয়াবহ সেই ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অন্যান্যদের স্মরণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
শোক, শ্রদ্ধা আর বেদনাময় স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় আয়োজন করা হয় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল।
দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাসের হায়দার আলী একাডেমিক ভবনের সামনে স্থাপিত স্মৃতিবেদিতে সকালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাইলস্টোন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) নুরন নবী, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলমসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
স্মৃতিচারণে ফিরে এলো সেই ভয়াবহ দিন
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিকট বিস্ফোরণ ও শিশুদের চিৎকারে পুরো এলাকা ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পরিণত হয়।
তিনি জানান, উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি কয়েকজন শিশুকে আগুনের মধ্যে আটকে থাকতে দেখেন। একই সময় শিক্ষক মাহরীন চৌধুরী নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কয়েকজন শিশুকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
মনিরুজ্জামান বলেন, আগুনে পুড়ে গেলেও মাহরীন চৌধুরী শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শিশুদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার পরও বিমানের শব্দ অনেকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে। তাঁর নিজের সন্তানও দীর্ঘদিন বিমানের শব্দ শুনলে ভয় পেত।
‘মিস, প্লিজ আমাদের বাঁচান’
শিক্ষিকা ফারজানা কাবেরী সেই দিনের স্মৃতি বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় শিশুরা তাঁকে সাহায্যের জন্য ডাকছিল। অনেক শিশু বলছিল, “মিস, প্লিজ আমাদের বাঁচান।”
ফারজানা বলেন, চারদিকে আগুনের কারণে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই মুহূর্তের ভয়াবহতা এখনো তাঁকে কষ্ট দেয়।
তিনি আরও বলেন, নিহত শিশুরা শুধু শিক্ষার্থী ছিল না, তারা শিক্ষকদের কাছে নিজেদের সন্তানের মতো ছিল। তাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য স্মৃতি এখনো সবাইকে কাঁদায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে কারণ
দুর্ঘটনার পর একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটির কারিগরি ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে পাইলটের প্রশিক্ষণ ঘাটতি, তদারকির দুর্বলতা এবং ভবন নির্মাণসংক্রান্ত কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়।
গত বছরের ৪ নভেম্বর তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদন তৎকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়।
ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন
এদিকে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঘোষিত ক্ষতিপূরণ এখনো পুরোপুরি পেয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণের অর্থ পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক বছর পেরিয়ে গেলেও মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির সেই দিনটি এখনো শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে এক গভীর বেদনার স্মৃতি হয়ে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - জাতীয়
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা
- শিক্ষার্থী আন্দোলনে অরিজিৎ সিংয়ের প্রতিবাদ, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
- ইনফ্যান্তিনোর পদত্যাগ চান লা লিগা সভাপতি তেবাস
- জেন-জি আন্দোলনের সমর্থনে রাহুল গান্ধীর ৫ দফা দাবি
- রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদ আবার গ্রেপ্তার
- এনসিপি নেতা কাফিসহ বাবা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা
- মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর, এখনো কাঁদায় সেই ভয়াবহ স্মৃতি
- ‘দ্য ওডিসি’র পর চলচ্চিত্র নির্মাণে তিন বছরের বিরতি নেবেন নোলান
- মাদ্রাসায় মাদক সেবনের অভিযোগে পরিচালকসহ ৪ জন আটক, সাজা দিল ভ্রাম্যমাণ আদালত
- শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না: সারোয়ার তুষার
- ডা. শফিকুর রহমান: জীবন, চিকিৎসা পেশা ও রাজনৈতিক পথচলা
- জনগণের প্রতিনিধি শামীম কায়সার লিংকনের জীবন ও রাজনৈতিক পথচলা
- এক সময় ঘুমাতেন রাস্তায়, আজ বিশ্বকাপের নায়ক
- জার্মানিকে হারিয়ে নকআউটে ইকুয়েডর, আনন্দে জাতীয় ছুটি ঘোষণা
- ধাপে ধাপে হবে স্থানীয় সরকার ভোট, শেষ হতে পারে ২০২৭ সালে
- হাসনাত আব্দুল্লাহ: ছাত্রজীবন, আন্দোলন ও রাজনৈতিক পথচলা
- ১ জুলাই থেকে সারা দেশে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বাংলা কিউআর পেমেন্ট
- তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ
- বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সামনে পুরোনো রেকর্ড ভাঙার চ্যালেঞ্জ
- সাইফুল্লাহ হত্যা: বিচার দাবি করে বিএনপিকে কড়া বার্তা শিবির সভাপতির




