• বুধবার , ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ | ১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অমর একুশের প্রভাতে শ্রদ্ধার জোয়ার: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ঢল

অমর একুশের প্রভাতে শ্রদ্ধার জোয়ার: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ঢল

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৫ ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ পরিণত হয় গভীর শ্রদ্ধা, আবেগ ও সংহতির মিলনমেলায়। ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রথম প্রহর থেকেই সেখানে নামে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষাশহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। শহীদ মিনার এলাকা ঘিরে সৃষ্টি হয় এক অনন্য শোকগম্ভীর পরিবেশ, যেখানে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম একসঙ্গে উচ্চারণ করে ভাষা আন্দোলনের চেতনা।

দিবসের সূচনালগ্নে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শহীদ মিনারের বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর রাত ১২টা ৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও ধারাবাহিকভাবে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করে।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১-দলীয় জোট শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানায়। এ সময় জোটের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি উচ্চ আদালতের বিচারপতি, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকেও যথাযোগ্য মর্যাদায় শ্রদ্ধা জানানো হয়। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ভাষা শহীদদের স্মরণে ফুল দেন। শিক্ষা অঙ্গনের প্রতিনিধিরাও পিছিয়ে ছিলেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্যসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, সিপিবি ও জাসদসহ বিভিন্ন দল অংশ নেয়। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের নেতাকর্মীরা স্লোগান ও মিছিল নিয়ে উপস্থিত হয়ে ভাষা শহীদদের চেতনা ধারণ ও বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের সারি দীর্ঘতর হতে থাকে। পুরো শহীদ মিনার এলাকা একুশের শোক, গৌরব ও ঐক্যের আবহে মুখর হয়ে ওঠে। ভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের স্মরণে এ দিনটি শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম, আত্মপরিচয় ও ভাষার মর্যাদা রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় জাগিয়ে তোলে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/