সৌদিতে হুতিদের হামলা, প্রশ্নের মুখে মক্কা চুক্তির কার্যকারিতা


প্রকাশিত: ১০:৩৫ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার পর গত মাসে স্বাক্ষরিত মক্কা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের প্রতি তীব্র নিন্দা ও সংহতি জানিয়েছে চুক্তির অংশীদার তুরস্ক ও পাকিস্তান। তবে এখন পর্যন্ত দেশ দুটি সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়নি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, আপাতত সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়ে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য, আকাশ প্রতিরক্ষা ও ড্রোন সক্ষমতাসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দিতে পারে তুরস্ক ও পাকিস্তান।
সৌদিতে বড় হামলা হুতিদের
গত সপ্তাহে সৌদি আরবে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার জানান দেয় ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। হামলায় বেসামরিক স্থাপনাসহ দেশটির চারটি শহর এবং একটি তেল শোধনাগার আক্রান্ত হয়।
এই হামলার পর মূলত দুটি বিষয় সামনে এসেছে। প্রথমত, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা স্থিতিশীল থাকবে। দ্বিতীয়ত, দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মক্কা চুক্তি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
চুক্তি নিয়ে কেন প্রশ্ন
হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশই সরাসরি সামরিক সহায়তার ঘোষণা দেয়নি।
গত মাসে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে অন্য সদস্যদের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সে হিসেবে সৌদি আরবে হুতিদের হামলার পর চুক্তির এই প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
নজর তুরস্ক ও পাকিস্তানের পদক্ষেপে
এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর তুরস্ক ও পাকিস্তানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বিশেষ করে সৌদি আরবে হামলাকে চুক্তির আওতায় কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি সামরিক অভিযানে যাওয়ার সম্ভাবনা কম আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের। বরং রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোন প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে তারা।
মক্কা চুক্তির বড় পরীক্ষা
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবে হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলে মক্কা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হবে।
তখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে—‘এক দেশের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা’—এই প্রতিশ্রুতি কি কেবল রাজনৈতিক অবস্থান, নাকি প্রয়োজনে সদস্য দেশগুলো যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতাও রাখে?
হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা তাই শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য নয়, নতুন এই জোটের পারস্পরিক আস্থা, প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তব সামরিক সক্ষমতারও বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
বিজ্ঞাপন
সর্বোচ্চ পঠিত - আন্তর্জাতিক
- লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলে ঝড়ের আশঙ্কা, ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সংকেত
- মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে স্বস্তি নেই, বেকায়দায় নিম্নবিত্তরা
- ‘তদন্ত করলে প্রত্যেক ছাত্র উপদেষ্টার নামে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে’: নুর
- বলিউডকে ‘ভেড়ার পাল’ বলে কটাক্ষ কারিনা কাপুরের
- পাকিস্তানকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা
- সৌদিতে হুতিদের হামলা, প্রশ্নের মুখে মক্কা চুক্তির কার্যকারিতা
- ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- প্রেক্ষাগৃহে ‘কালিন ভাইয়া’র ঝড়, প্রথম সপ্তাহেই ২০০ কোটি
- সরকারি ব্যয় আরও কমাতে বলেছে আইএমএফ, বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা
- যে গল্প জানলে নতুন করে চিনবেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে
- মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: জামায়াত আমির
- গণভোটের রায় প্রতিষ্ঠিত হলে অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হতেন: জামায়াত
- রাজ্জাক দেওয়ান স্মরণে গাইবেন বগা তালেবসহ ১৫ শিল্পী
- প্রতিপক্ষের বাড়িতে অস্ত্র রেখে পুলিশকে ফোন, নিজেই ফাঁসলেন যুবক
- মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র পেলেই রাশিয়ায় হামলা চালাবেন জেলেনস্কি
- অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিল বাংলাদেশ, হাসানের ৬ উইকেট
- ভারতে ‘ভূত আতঙ্কে’ হোস্টেল ছাড়ল ৬০০ শিক্ষার্থী, চিকিৎসকদের ভিন্ন ব্যাখ্যা
- টেস্টোস্টেরন পরীক্ষায় কি লিঙ্গ নির্ধারণ সম্ভব? জানুন বিজ্ঞান কী বলে
- বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগে একই দিনে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
- আদালতে এসে জামিন পেলেন তানজিন তিশা




