• সোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, পাবেন যেসব তরুণ উদ্যোক্তা

জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, পাবেন যেসব তরুণ উদ্যোক্তা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৫৪ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে নতুন অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ নামে এই নীতিমালা ১৩ সেপ্টেম্বর জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট।

নতুন এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন সুবিধা পাবেন। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ সংক্রান্ত নীতিমালা পাঠানো হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারীর বয়স আবেদনের শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে। একই সঙ্গে তাকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা এবং বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। তবে ঋণখেলাপি ব্যক্তি, আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক ঋণ নেওয়া ব্যক্তি এবং সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না।

কারিগরি স্টার্টআপ, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন বৈধ নতুন বা বিদ্যমান ব্যবসায়িক উদ্যোগ এই অর্থায়নের জন্য বিবেচিত হবে।

এই কর্মসূচিতে ‘ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স’ পদ্ধতিতে অর্থায়ন করা হবে। একজন উদ্যোক্তার ব্যবসার প্রকৃত প্রয়োজন ও সম্ভাব্য ব্যয় বিবেচনা করে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ দেওয়া হবে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং বাকি ১০ লাখ টাকা ম্যাচিং গ্র্যান্ট বা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসার জন্য ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হলে তিনি ৬ লাখ টাকা ঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান পাবেন। দুই অংশের অর্থ একই সময়ে তার ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।

তবে ঋণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে কিংবা অর্থের অপব্যবহার করা হলে অনুদানের অংশও সুদমুক্ত ঋণে পরিণত হবে। পরবর্তী সময়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সেই অর্থ আদায় করা হবে।

যোগ্য উদ্যোক্তা বাছাইয়ের জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে লিড ব্যাংক নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আবেদনকারীরা যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখা থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন। পরে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের লিড ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদনগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হবে।

আবেদনকারীর ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, বাজার সম্ভাবনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা যাচাই করা হবে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, সফল উদ্যোক্তা, শিল্প খাত ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ প্যানেল কাজ করবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের ১৭ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে।

অর্থায়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বাজার সংযোগ এবং ট্রেড লাইসেন্স বা ব্যবসা নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো।

বিজ্ঞাপন