• শনিবার , ২২ আগস্ট, ২০২৬ | ৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের শুল্ক বোমা! এবারে সিনেমার উপর ১০০% শুল্কের হুমকি!

ট্রাম্পের শুল্ক বোমা! এবারে সিনেমার উপর ১০০% শুল্কের হুমকি!

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৪০ ১ অক্টোবর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার এক চমক ঘোষণা করেছেন। এবার নিশানায় চলচ্চিত্র শিল্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আমেরিকার বাইরে তৈরি হওয়া সিনেমার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই সিদ্ধান্তে বলিউড, দক্ষিণী সিনেমা এবং আন্তর্জাতিক প্রোডাকশনগুলোর ব্যবসায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

অভিবাসন থেকে সিনেমা—ট্রাম্পের কঠোর নীতি

ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ভিসা, অভিবাসন এবং বিদেশি পণ্য নিয়ে কঠোর নীতি নিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো সিনেমা। মনে হচ্ছে, শুধু সিনেমা নয়, তিনি পুরো বিনোদন জগতকেই ‘চেক’ দিতে চাইছেন।

সিনেমার ওপর শুল্ক আরোপ

সোমবার ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আমাদের সিনেমার ব্যবসা অ্যামেরিকা থেকে অন্য দেশ চুরি করে নিয়েছে। শিশুর থেকে লাইসেন্স পর্যন্ত সবই।” আগে মে মাসে তিনি শুল্ক হুমকি দিয়েছিলেন, কিন্তু বিস্তারিত না জানালে বিনোদন জগতে ধোঁয়াশা ছড়িয়েছিল। এবার স্পষ্ট হয়ে গেছে—শুল্ক আসছে, এবং তা বড়সড়।

গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প হলিউডের প্রবীণ তারকাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। আলোচনায় ছিলেন সিলভেস্টার স্ট্যালোনও। তারকাদের সুপারিশে হলিউডকে বাঁচাতে কর ছাড় বা ট্যাক্স ক্রেডিটের কথাও বিবেচনা করা হয়েছে।

কার্যকর কবে, কীভাবে?

চলচ্চিত্র শিল্পে শুল্ক কবে এবং কীভাবে কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রোডাকশন হাউজ, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও সিনেমা হলে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার ওপর শুল্ক কীভাবে ধার্য হবে, পরে হোয়াইট হাউস ব্যাখ্যা দেবে।

বিদেশে শুটিংয়ের প্রভাব

হলিউড কেবল ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক বড় হিট যেমন ‘ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন’, ‘উইকেড’, ‘গ্লাডিয়েটর ২’–এর শুটিং বিদেশে হয়েছে। প্রোডপ্রো-র বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর মার্কিন প্রোডাকশনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২২ সালের তুলনায় ২৬% কম। অন্যদিকে খরচ বেড়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও ব্রিটেনে।

বিশেষ করে কানাডায় প্রভাব মারাত্মক। কানাডার বণিকসভা জানিয়েছে, মার্কিন প্রযোজনার খরচ বেড়ে গেলে দুই দেশের অর্থনীতি এবং মাঝারি আয়ের চাকরির বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দর্শকের ওপর প্রভাব

যদি প্রযোজকরা বিদেশে শুটিং চালিয়ে যান, ১০০% শুল্ক শেষ পর্যন্ত দর্শকের ঘাড়ে চাপবে। টিকিটের দাম বাড়বে, স্ট্রিমিং খরচও বাড়বে। অর্থাৎ, সিনেমা দেখার খরচ আরও বেড়ে যাবে।

বলিউডের জন্য ঝটকা

আমেরিকা হলো বলিউডের বড় বাজার, যেখানে ৫২ লক্ষের বেশি ভারতীয় প্রবাসী রয়েছেন। শুল্ক চাপলে টিকিটের দাম বাড়বে, দর্শক কমবে এবং মানুষ ওটিটি প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকবে। বিদেশে ভারতীয় সিনেমার আয়ের ৩৫–৪০% আসে অ্যামেরিকা থেকে। শুল্ক বাড়লে ডিস্ট্রিবিউশনের খরচ দ্বিগুণ হয়ে অনেক সিনেমার মুক্তি ঝুঁকির মুখে পড়বে। ছোট ও মাঝারি প্রযোজনা সংস্থারই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ

ফিল্ম স্টাডিজের অধ্যাপক মানস ঘোষ বলেন, “হলিউডের অবস্থা এখন খারাপ। অন্যদিকে, এশিয়ার সিনেমা গ্লোবাল সেন্টার হয়ে উঠছে। ট্রাম্প শুল্ক চাপিয়ে অন্তত নিজের দেশের সার্কুলেশন বাঁচাতে চাইছেন।”

চলচ্চিত্র গবেষক সোমেশ্বর ভৌমিক বলেন, “এটা সাপ্লাই চেইনের যুগ। কোথায় কোন কাজ হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে খরচ। শুল্ক আদৌ কীভাবে ধার্য হবে, এখনো অস্পষ্ট। তবে ভারতীয় সিনেমার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

ফিল্ম স্টাডিজের অধ্যাপক অনিন্দ্য সেনগুপ্ত বলেন, “গ্লোবালাইজেশন যেখানে সবার জন্য বাজার খুলে দিয়েছে, ট্রাম্প উল্টো পথে হাঁটছেন। মার্কিন সংস্কৃতিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। তবে সফল হবেন না। তিনি আসলে ভারতের মতো জাতীয় সেন্সরশিপ চালু করতে চাইছেন। বিরোধী স্বর নিয়ন্ত্রণ করতেই বাইরের দেশের সিনেমা আটকে দিতে চাইছেন। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বিশ্ব বিনোদন শিল্পেও প্রভাব পড়বে।”

বিজ্ঞাপন