• মঙ্গলবার , ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিমান্ডে নতুন তথ্য দিলেন প্রথম স্ত্রী, মরিয়মের মৃত্যু মামলায় তদন্তে বাড়ছে গুরুত্ব

রিমান্ডে নতুন তথ্য দিলেন প্রথম স্ত্রী, মরিয়মের মৃত্যু মামলায় তদন্তে বাড়ছে গুরুত্ব

মোরনিউজ ডেস্ক
মোরনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:২০ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় রিমান্ড শেষে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তে সহায়ক এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে আদালতকে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রিমান্ড শেষে মাকছুদাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। আবেদনে তিনি জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মামলাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তের পরবর্তী ধাপে সহায়ক হতে পারে।

এদিকে, মামলাটি আরও তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে এখন গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে ডিবির হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।

মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকে মরিয়ম বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন। তার বাবার অভিযোগ, এসব নির্যাতনের কারণেই তিনি আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।

শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শেষে মাকছুদার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান। এখন সেই তথ্য যাচাই-বাছাই করে মামলার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখবে তদন্ত সংস্থা।

অন্যদিকে, আদালতে গাজী নজরুল ইসলাম তার ও প্রথম স্ত্রী মাকছুদার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মিথ্যা এবং ঘটনার সময় তারা বাসায় ছিলেন না।

ফলে মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, তার মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল এবং মামলায় যেসব অভিযোগ করা হয়েছে—এসব বিষয় এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের পর তদন্তকারীরা আসামিদের বক্তব্য, পারিপার্শ্বিক তথ্য ও অন্যান্য সম্ভাব্য আলামত যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

বিজ্ঞাপন