• বৃহস্পতিবার , ০৭ মে, ২০২৬ | ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় নকলচক্রের কৌশল ফাঁস: ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ নারী পরীক্ষার্থী আটক

পঞ্চগড়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় নকলচক্রের কৌশল ফাঁস: ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ নারী পরীক্ষার্থী আটক

খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি
খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৫:৫৫ ১০ জানুয়ারী ২০২৬

পঞ্চগড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ এক নারী পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক পরীক্ষার্থীর নাম রুবীনা খাতুন (৩২)। শুক্রবার ৯ জানুয়ারি বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার ডক্টর আবেদা হাফিজ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের এক পরীক্ষার্থী বিষয়টি বুঝতে পেরে কক্ষ পরিদর্শকদের জানালে সন্দেহভাজন ওই নারী পরীক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অধ্যক্ষের কক্ষে নেওয়া হয়। পরে বিষয়টি পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে কেন্দ্র সচিব তাকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সোহেল রানার কাছে হস্তান্তর করেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার কানের ভেতর থেকে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।

আটক রুবীনা খাতুন পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের দফাদার পাড়া এলাকার আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী। আটকের সময় তার সঙ্গে তিন বছর বয়সী একটি শিশু সন্তানও ছিল, যা ঘটনাটিকে আরও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনায় নিয়ে আসে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পঞ্চগড় জেলা শহরের ২০টি কেন্দ্রে একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বিকেল তিনটায় শুরু হয়। ওই সময় ডক্টর আবেদা হাফিজ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে সন্দেহজনক আচরণের কারণে তাকে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের উপস্থিতিতে তার কাছ থেকে ডিভাইসটি জব্দ করা হয়।

কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান সুমন ও মনরঞ্জন কুমার জানান, পাশের এক পরীক্ষার্থী প্রথম বিষয়টি লক্ষ্য করে তাদের অবহিত করেন। প্রথমে অভিযুক্ত নারী পরীক্ষার্থী বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে প্রশাসন ও পুলিশের তল্লাশিতে ইলেকট্রনিক ডিভাইসটি উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, পরীক্ষার হল পরিদর্শকরা ৬ নম্বর কক্ষে তাকে শনাক্ত করেন। ঘটনাটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় না থাকায় ডিভাইসটি জব্দ করে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য তাকে সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আটক হওয়ার পর পরীক্ষার্থীর বাবা তার ছোট শিশুটিকে রুবীনার কাছে দিয়ে চলে যান। শিশুটি বর্তমানে মায়ের সঙ্গেই রয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিশুটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত থানায় নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসন আরও জানায়, এবছর পঞ্চগড় জেলায় ১৭১টি পদের বিপরীতে ২০টি কেন্দ্রে মোট ১০ হাজার ৮১০ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮ হাজার ৭৮১ জন এবং অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ২৯ জন। পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ছিল ৮১ দশমিক ২৩ শতাংশ।

এই ঘটনায় পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নকল রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান আবারও স্পষ্ট হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/