• রবিবার , ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ | ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝালকাঠি থেকে অপহৃত সাংবাদিকের বাবা দুই দিন পর বাগেরহাট থেকে উদ্ধার।

ঝালকাঠি থেকে অপহৃত সাংবাদিকের বাবা দুই দিন পর বাগেরহাট থেকে উদ্ধার।

নাদিম শরীফ: ঝালকাঠি প্রতিনিধি
নাদিম শরীফ: ঝালকাঠি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:৩৬ ৮ নভেম্বর ২০২৫

ঝালকাঠি থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর বাগেরহাটের বারাকপুর এলাকা থেকে সাংবাদিক মোল্লা শাওনের বাবা ইসমাইল মোল্লা ওরফে আয়নাল হককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাগেরহাটের বারাকপুর যুব উন্নয়ন প্রকল্পের অভ্যন্তর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাগেরহাট থানা পুলিশের এসআই গৌতম সাহা। উদ্ধারকৃত ইসমাইল মোল্লাকে পরবর্তীতে ঝালকাঠি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে গত ৫ নভেম্বর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাংবাদিক মোল্লা শাওন (সোহাগ) ঝালকাঠি সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ২০০) করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তার বাবা ইসমাইল মোল্লা (৬৫) গত ২ নভেম্বর ঝালকাঠি পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড রূপনগরে মেয়ের বাসায় বেড়াতে এসে নিখোঁজ হন।

জিডিতে বলা হয়, ৫ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে তাকে “নায়না মেসন কাপড়ের দোকান”-এ রেখে মেয়ে বাসায় যান। কিন্তু মাত্র ৪৮ মিনিট পর ফিরে এসে বাবাকে আর খুঁজে পাননি। বহু অনুসন্ধানের পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে থানায় জিডি করা হয়।

ইসমাইল মোল্লার শারীরিক বিবরণে বলা হয় — তার উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি, গায়ের রঙ ফর্সা, চুল ও দাড়ি সাদা, মুখ লম্বাটে এবং নিখোঁজ হওয়ার সময় পরনে ছিল সাদা লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি।

উদ্ধারের পর সাংবাদিক মোল্লা শাওন অভিযোগ করেন, “আমার বাবাকে নিখোঁজ করা হয়নি, তাকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, “আমার সঙ্গে আসামিদের দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধ চলছে। গত ৮ জুলাই আসামিরা আমাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে রাস্তায় ফেলে যায়। পরে আমি চিকিৎসার জন্য চেন্নাই যাই এবং ফিরে এসে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি। আমার বাবা সেই মামলার মূল সাক্ষী হওয়ায় আসামিরা তাকে অপহরণ করেছে।”

তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ এবং কল রেকর্ডের তথ্য প্রমাণ হিসেবে পাওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জিডিতে উল্লেখ করা সন্দেহভাজনদের মধ্যে রয়েছেন —

নাসিফ মাহমুদ অপু ওরফে শোভন হাওলাদার (ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, একাধিক মামলার আসামি),

আখতারুজ্জামান ওরফে আবু আক্তার (ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক),

অলি ওরফে অলিউল্লাহ (বরিশাল বাংলাবাজারের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী),

টিপু ও দিপু হাওলাদার (ছাত্রলীগের সদস্য),

আওলাদ হোসেন রিপন তালুকদার (ঝুমা কটেক্সের মালিক),
এছাড়া আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ঝালকাঠি থানার এসআই মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “আমরা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছি। উদ্ধার হওয়া ইসমাইল মোল্লা বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। অপহরণের অভিযোগের বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও পরিবার ইসমাইল মোল্লার জীবিত উদ্ধারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং অপহরণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/