• বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ | ২ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টঙ্গীর খতিব মহিবুল্লাহকে অপহরণ, একদিন পর উদ্ধার হলো পঞ্চগড় থেকে

টঙ্গীর খতিব মহিবুল্লাহকে অপহরণ, একদিন পর উদ্ধার হলো পঞ্চগড় থেকে

খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি
খাদেমুল ইসলাম: পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬:৫৩ ২৩ অক্টোবর ২০২৫

গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার টিএনটি বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি মহিবুল্লাহ মিয়াজীকে ‘অপহরণের’ একদিন পর পঞ্চগড় সদর উপজেলার হেলিপ্যাড এলাকা থেকে শিকলে বাঁধা ও বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয়রা সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কথা বলতে পারলেও তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না।

হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে মুফতি মহিবুল্লাহ জানান, বুধবার ফজরের নামাজ শেষে হাঁটতে বের হলে একটি অ্যাম্বুলেন্সে থাকা পাঁচজন ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর তাকে বিবস্ত্র করে মারধর করে এবং নানা অমানবিক নির্যাতন চালায়। তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। চিন্ময় দাসের পক্ষে কথা বলা, বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছিল। এমনকি কোটি টাকার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকি পান।

মুফতি মহিবুল্লাহর অভিযোগ, অপহরণকারীরা প্রমিত বাংলায় কথা বললেও তাদের বাংলাদেশি মনে হয়নি। তারা বলেছে, একে একে সব আলেমদের ক্ষতি করবে। স্থানীয়রা জানান, ভোরে তারা গাছের সঙ্গে শিকলে বাঁধা ও বিবস্ত্র অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনিই টঙ্গীর খতিব মুফতি মহিবুল্লাহ।

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন জানান, রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার আগে থেকেই মাথায় অস্ত্রোপচার হয়েছিল এবং তিনি কিডনি ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। পঞ্চগড় পুলিশ সুপার বলেন, ভোরে ৯৯৯–এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরিবার টঙ্গী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চগড়ে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেন। বক্তারা মুফতি মহিবুল্লাহর ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ইসকন নিষিদ্ধের দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/