• সোমবার , ০১ জুন, ২০২৬ | ১৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনারগাঁয়ে পাওনা টাকা না মেলায় ব্যবসায়ীর জানাজা স্থগিত করল বিএনপি নেতা

সোনারগাঁয়ে পাওনা টাকা না মেলায় ব্যবসায়ীর জানাজা স্থগিত করল বিএনপি নেতা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৪১ ১ জুন ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নে পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে এক মৃত ব্যক্তির জানাজা ও দাফন কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

মৃত গোলজার হোসেন উপজেলার গোপেরবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর তিনি ঈদুল আজহার দিন দুপুরে মারা যান। পরিবারের সদস্যরা ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার দাফনের প্রস্তুতি নেন এবং পরদিন সকালে জানাজার আয়োজন করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে গোলজার হোসেনের মরদেহ মশুরাকান্দা ঈদগাহ মাঠে জানাজার জন্য নেওয়া হলে সনমান্দী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধান মৃত ব্যক্তির কাছে নিজের এক লাখ ৩৬ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই টাকা পরিশোধের বিষয়ে নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি জানাজা ও দাফনের কার্যক্রমে আপত্তি জানান। এতে কিছু সময়ের জন্য জানাজা অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে যায়।

পরে মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা পাওনা টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং জানাজা সম্পন্ন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জানাজায় কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং এমন ঘটনায় অনেকেই বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হজরত মিয়া বলেন, একজন মৃত ব্যক্তির জানাজাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকেই এটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে সায়েম প্রধান বলেন, গোলজার হোসেনের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি পাওনা টাকা ফেরত পাচ্ছিলেন না। তবে তিনি দাবি করেন, জানাজা বন্ধ করার উদ্দেশ্য ছিল না; বরং বিষয়টির একটি সমাধান চাওয়া হয়েছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে সমস্যার সমাধান হয়।

এদিকে, সোনারগাঁ থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, বিষয়টি পুলিশকে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতো।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে সামাজিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, পারিবারিক বা আর্থিক বিরোধ থাকলেও জানাজা ও দাফনের মতো ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া উচিত নয়।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/