• বুধবার , ০৮ এপ্রিল, ২০২৬ | ২৫ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুক্তচিন্তা, সাহস ও মানবিকতার অনন্য প্রতিচ্ছবি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম

মুক্তচিন্তা, সাহস ও মানবিকতার অনন্য প্রতিচ্ছবি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম

আনিসুর রহমান: সাভার প্রতিনিধি
আনিসুর রহমান: সাভার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:৫৭ ৬ এপ্রিল ২০২৬

নশ্বর এই পৃথিবীতে মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী হলেও কর্ম ও আদর্শের মধ্য দিয়েই কেউ কেউ স্থায়ী আসন গড়ে নেন মানুষের হৃদয়ে। তেমনই এক আলোকবর্তিকা ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম—যিনি শিক্ষা, গবেষণা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক চেতনায় অবিচল অবস্থানের মাধ্যমে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর গণিত বিভাগের এই খ্যাতিমান শিক্ষক ২০০২ সাল থেকে শিক্ষকতা করে আসছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কেবল শ্রেণিকক্ষেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তচিন্তা, যুক্তিবাদী মনন ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন সমানভাবে উজ্জ্বল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জনের পর জার্মানি, রোমানিয়া ও পোল্যান্ডের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখান থেকে তিনি এমএসসি ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা ও বৃত্তির মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতা দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করাও তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ মহাবিদ্যালয় এবং মির্জা গোলাম হাফিজ ডিগ্রি কলেজ-এর কার্যক্রম গতিশীল করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর এসব উদ্যোগ দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।

শিক্ষকতার গণ্ডি পেরিয়ে তিনি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবেও পরিচিত। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকট ও দুঃসময়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদী ভূমিকা তাঁকে একজন নির্ভীক কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মতে, তিনি আপসহীন, স্পষ্টভাষী এবং সত্যনিষ্ঠ একজন মানুষ। ব্যক্তিস্বার্থ বা ক্ষমতার প্রলোভনে তিনি কখনো আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। বরং ন্যায় ও সত্যের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে তিনি নিজেকে আলাদা করে তুলেছেন।

তবে এই দৃঢ় অবস্থানের কারণে তাঁকে বিভিন্ন সময় সমালোচনা ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখিও হতে হয়েছে। তবুও তিনি দমে যাননি; সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে নিজের আদর্শে অটল থেকেছেন।

ব্যক্তিজীবনে সরল ও অনাড়ম্বর হলেও পেশাগত ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল। শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষাভিত্তিক জ্ঞান নয়, বরং চিন্তাশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাকেই তিনি শিক্ষার মূল লক্ষ্য মনে করেন।

গবেষণার ক্ষেত্রেও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। অপারেশনস রিসার্চ, সংখ্যা তত্ত্ব, ক্যালকুলাস ও পরিসংখ্যান বিষয়ে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ রয়েছে। তিনি একাধিক পিএইচডি, এমফিল ও মাস্টার্স গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য, ফজিলাতুন্নেছা হলের প্রভোস্ট এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষা, গবেষণা, সমাজসেবা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে অটল থেকে ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আজ একটি প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার নাম। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর কর্ম ও আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/