• রবিবার , ১২ এপ্রিল, ২০২৬ | ২৮ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুমার পর জানাজা বউ বরণ নয়, লাশ দাফনের অপেক্ষায় স্বজনেরা

জুমার পর জানাজা বউ বরণ নয়, লাশ দাফনের অপেক্ষায় স্বজনেরা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৫ ১৩ মার্চ ২০২৬

বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকে। নতুন সংসার শুরু করতে যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন নবদম্পতিসহ একই পরিবারের একাধিক সদস্য। ফলে যেখানে হওয়ার কথা ছিল বউ বরণ, সেখানে এখন স্বজনরা অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনদের দাফনের জন্য। হৃদয়বিদারক এই ঘটনা ঘটেছে Rampal Upazila-এর বেলাই ব্রিজ এলাকায়।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নবদম্পতি Abidur Rahman Sabbir (২৮) ও Marzia Akter Mitu (২৪)। বিয়ের সাজেই স্বামীর পাশে বসে নতুন বাড়ির পথে ছিলেন মিতু। হাতে মেহেদি, গায়ে খয়েরি বেনারসি, কানে দুল আর হাতে চুড়ি—সবই ছিল, কিন্তু ছিল না প্রাণের স্পন্দন। সড়ক দুর্ঘটনায় তার জীবন থেমে যায় নতুন জীবনের শুরু হওয়ার আগেই।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) গভীর রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই অ্যাম্বুলেন্সে করে মিতুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় Koyra Upazila-এর নাকশা গ্রামে। তার সঙ্গে ফিরেছে ছোট বোন লামিয়া (১২), দাদি রাশিদা বেগম (৭৫) ও নানি আনোয়ারা (৭০)-এর নিথর দেহ।

অন্যদিকে একই রাতে বাগেরহাটের Mongla Upazila-এর শেলাবুনিয়া এলাকায় পৌঁছেছে বর সাব্বিরের মরদেহ। তার সঙ্গে নিহত হয়েছেন বাবা আব্দুর রাজ্জাক (৭০), মা আঞ্জুমানারা (৬০), বোন ঐশী (৩০), বোনজামাই সামিউল আলম (৪২), বড় ভাবি পুতুল (৩০) এবং পরিবারের কয়েকজন শিশু সদস্য—আলিফ, ইরাম ও আব্দুল্লাহ সানি (১২)। এছাড়া মাইক্রোবাসের চালক নাঈম শেখ (৩১)-এর মরদেহও তার নিজ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এই দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই ভেঙে গেছে দুটি পরিবারের স্বপ্ন। পরিবারের এতজন সদস্যকে একসঙ্গে হারিয়ে সাব্বিরের বড় ভাই আশরাফুল আলম জনি শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। সাব্বিরের বাবা আব্দুর রাজ্জাক স্থানীয়ভাবে পরিচিত সামাজিক ব্যক্তি এবং মংলা পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হওয়ায় শোকার্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করছেন।

জানা গেছে, শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর মংলা উপজেলা মাঠে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রাম থেকে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে মাইক্রোবাসে রওনা দেন মিতু। তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন, দাদি ও নানি। অন্যদিকে বর সাব্বির তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাগেরহাটের মংলার দিকে যাচ্ছিলেন।

মাইক্রোবাসটি যখন রামপালের বেলাই ব্রিজের কাছে পৌঁছায়, তখন বৃষ্টির মধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে যায় গাড়ি দুটি। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান অনেকে, আর গুরুতর আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে একে একে নিভে যায় জীবনের প্রদীপ।

একটি আনন্দমুখর বিয়ের যাত্রা মুহূর্তেই রূপ নেয় শোকের মিছিলে। যেখানে নতুন বউকে বরণ করার প্রস্তুতি ছিল, সেখানে এখন স্বজনদের চোখে শুধু অশ্রু আর অপেক্ষা—প্রিয়জনদের শেষ বিদায়ের।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/