• শুক্রবার , ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উদ্বোধনের আগেই ঝুঁকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প: এক বছরেও হস্তান্তর হয়নি, ঘরে ফাটল ও পাড় ধস

উদ্বোধনের আগেই ঝুঁকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প: এক বছরেও হস্তান্তর হয়নি, ঘরে ফাটল ও পাড় ধস

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৩ ১১ মার্চ ২০২৬

সাতক্ষীরার Ashashuni Upazila–র Sriula Union–এর মহিষকুড় এলাকায় নির্মিত সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো নির্মাণ শেষ হওয়ার প্রায় এক বছর পার হলেও এখনো উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এরই মধ্যে ঘরের আশপাশে পাড় ধসে পড়া ও ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ায় প্রকল্পটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সারিবদ্ধভাবে নির্মিত ঘরগুলোর দুই পাশেই রয়েছে মৎস্য ঘের। ঘরের সামনে ও পেছনের অংশে মাটি ধসে গিয়ে বড় ধরনের ফাটল তৈরি হয়েছে। পাড় রক্ষার জন্য বসানো প্যালাসাইডিংয়ের কয়েকটি অংশ ইতোমধ্যে কাত হয়ে পড়েছে। ফলে ভাঙন ধীরে ধীরে ঘরের কাছাকাছি চলে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য প্রায় ৫৫ শতক জমির ওপর মোট ১৮টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। সেই হিসেবে পুরো প্রকল্পে প্রায় ৪৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় এক বছর পার হলেও এখনো ঘরগুলো উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

স্থানীয় সমাজকর্মী শেখ হাবিবুর রহমান বলেন, প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আশ্রয়ণ প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই ঝুঁকির মুখে পড়া অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় জমির প্রকৃতি এবং আশপাশের মাছের ঘেরের প্রভাব সঠিকভাবে বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। দীর্ঘদিন ঘরগুলো অব্যবহৃত পড়ে থাকা এবং যথাযথ তদারকি না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দ্রুত ঘরগুলো মেরামত করে ভূমিহীনদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে Ashashuni Upazila–র উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পটির দুই পাশে মাছের ঘের রয়েছে। এতদিন ঘেরে পানি থাকায় প্যালাসাইডিং ঠিক ছিল। সম্প্রতি ঘেরের পানি সেচ দিয়ে নামিয়ে দেওয়ায় প্যালাসাইডিং কাত হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘেরে আবার পানি উঠলে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ করা হবে। তবে ঘরগুলো হস্তান্তরের দায়িত্ব মূলত ভূমি অফিসের বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে পানির চাপ বাড়লে ভাঙনের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো রক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন