• সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় ভোজ্যতেলে সংকট, বেড়েছে বোতল ও খোলা তেলের দাম

ঢাকায় ভোজ্যতেলে সংকট, বেড়েছে বোতল ও খোলা তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৩৪ ৮ মার্চ ২০২৬

চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে ঘিরে রাজধানী Dhaka-র বিভিন্ন এলাকায় ভোজ্যতেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক দোকানে বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। একই সঙ্গে বোতল ও খোলা দুই ধরনের তেলের দামই কিছুটা বেড়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক ভোক্তা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনছেন। অন্যদিকে কোম্পানি থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে অনেক দোকানেই বোতলজাত তেল দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, মালিবাগ ও মগবাজার এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ১ ও ২ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম। পরিচিত কিছু ব্র্যান্ড সীমিত পরিমাণে থাকলেও অনেক অপরিচিত ব্র্যান্ড বাজার থেকে প্রায় উধাও।

মানিকনগরের পুকুরপাড় এলাকায় তেল কিনতে আসা সবুজ নামের এক ক্রেতা বলেন, এক লিটারের বোতল তেল কিনতে তিনটি দোকান ঘুরেও পাননি। শেষ পর্যন্ত তাকে খোলা তেল কিনতে হয়েছে, যার দামও বেড়ে গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৫ লিটারের একটি সয়াবিন তেলের বোতলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) ৯৫৫ টাকা। আগে ডিলারদের কাছ থেকে এটি ৯৩০ টাকায় কিনে দোকানিরা প্রায় ৯৪০ টাকায় বিক্রি করতেন। কিন্তু কয়েক দিন ধরে তারা ৯৫০ টাকায় কিনছেন এবং ৯৫৫ টাকায় বিক্রি করছেন। ফলে খুচরা বিক্রেতাদের লাভ কমেছে এবং ভোক্তাদেরও আগের তুলনায় ৫–১০ টাকা বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।

খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। আগে প্রতি কেজি ১৯৫ থেকে ১৯৮ টাকায় বিক্রি হলেও এখন অনেক দোকানে তা ২০০ থেকে ২০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতাদের মতে, প্রায় এক মাস ধরে বোতলজাত তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম। গত কয়েক দিনে এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্রেতা বেশি করে তেল কিনে মজুত করছেন, যা বাজারে ঘাটতি বাড়াচ্ছে।

তবে তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, তাদের পক্ষ থেকে সরবরাহ কমানো হয়নি। Meghna Group of Industries-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক তাসলিম শাহরিয়ার জানান, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে তারা বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ করেছেন এবং রমজানে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত তেল আমদানি করা হয়েছে।

অন্যদিকে City Group-এর নির্বাহী পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান সরবরাহ কমায়নি। এলসি–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কিছু ছোট কোম্পানি তেল আমদানি করতে পারছে না। পাশাপাশি রমজানে বাড়তি চাহিদা ও কিছু মানুষের মজুত করার প্রবণতার কারণেও বাজারে এই সংকট তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন