কুষ্টিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১১

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা চাপাইগাছি বাজারে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী গাজীকালু-চম্পাবতী মেলাটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মেলা বসানো নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ভাঙচুর-লুটপাটের শিকার হন অনেক সাধারণ ব্যবসায়ী, যারা জীবিকার তাগিদে দূর-দূরান্ত থেকে এখানে দোকান বসিয়েছিলেন।
সন্ধ্যার ঠিক আগে বাজারটিতে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ। কেউ বলছে, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বিএনপি সমর্থকরা মেলা বসাতে চেয়েছিল। অন্যদিকে জামায়াত নেতারা বলছেন, মেলায় অশ্লীলতা আর জুয়ার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে তারা প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই 'প্রতিবাদ' শেষ পর্যন্ত রক্তাক্ত সংঘর্ষে গড়ায়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক, বৃদ্ধ, ব্যবসায়ীসহ দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা। জামায়াতের আহতদের মধ্যে ছিলেন জগন্নাথপুর উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, ৭০ বছরের কুদ্দুস প্রামাণিকসহ ছয়জন। তারা কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। বিএনপির পক্ষ থেকে আহত হয়েছেন খোকসা সরকারি কলেজের প্রভাষক সরাফাত সুলতান, শিক্ষক টিপু সুলতানসহ পাঁচজন। তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দোকানদারদের ভাষায়, এমন ভয়াবহ দৃশ্য আগে কখনও দেখেননি। পাবনার চাটমোহর থেকে আসা আরজ আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সন্ধ্যার একটু আগে কয়েকশ টুপিপরা লোক দোকানে এসে রামদা, লাঠিসোঁটা দিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। আমি প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যাই। পরে এসে দেখি, দেড় লাখ টাকার মালামাল গায়েব। সব শেষ।”
একই রকম আতঙ্কে ছিলেন বাজারের কলা ব্যবসায়ী নাদের শেখও। তিনি বলেন, “শত বছর ধরে এখানে মেলা হচ্ছে। আজ প্রথম দেখলাম দুই দল লড়াই করছে। ওরা অস্ত্র নিয়ে এসেছিল। আমি চোখের সামনে ভাঙচুর দেখেছি।”
এদিকে জামায়াত নেতাদের দাবি, তারা শুধু মেলার অশ্লীলতা বন্ধের দাবিতে গিয়েছিলেন। উল্টো তাদের ওপরই হামলা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, জামায়াতপন্থীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে দোকানপাট লুট করে দিয়েছে। দুই পক্ষই থানায় মামলা করার ঘোষণা দিয়েছে।
কুমারখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ বলেন, “এ বছর মেলার কোনো অনুমতি ছিল না। দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এখন শান্ত। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকার সাধারণ মানুষ বলছেন, রাজনীতির নামে এই হানাহানি তারা চান না। শত বছরের ঐতিহ্যকে সামনে রেখে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব করার আশাই ছিল সবার। কিন্তু আজ সেই আশার মেলাই রক্ত আর আতঙ্কে ঢেকে গেছে।
সর্বোচ্চ পঠিত - দেশজুড়ে
- ব্রাজিলের বিপক্ষে কঠিন লড়াই দেখছেন হালান্ড
- গৃহবন্দিত্বেই থাকবেন ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনেরো
- জুলাই বিপ্লবের অর্জন সবার, একক কারও নয়: প্রধানমন্ত্রী
- বরিশালে পুলিশের কাছ থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ কর্মীকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
- ১৭ বছরের কারাজীবন পেরিয়ে রাজনীতিতে বাবরের প্রত্যাবর্তন
- জুলাই নিয়ে শাওনের মন্তব্যে রাশেদ খাঁনের কঠোর প্রতিক্রিয়া
- এফডিসিতে শুরু হয়েছে শিল্পী সমিতির নির্বাচন, ভোটার ৫৭৩ জন
- জোটাকে স্মরণ করে আবেগাপ্লুত রোনালদো
- জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে আত্মাহুতির ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু
- জাপানের দেওয়া পাঁচটি আধুনিক টহল বোট পেল বাংলাদেশ নৌবাহিনী
- রিয়া মনি হত্যা মামলায় নাম নিয়ে বিভ্রান্তি, প্রতিবাদ জানালেন সাভার পৌর ছাত্রদল নেতা রনি ইসলাম
- আশুলিয়ায় কোটি টাকার পুকুর খনন প্রকল্পে মাটি বিক্রির অভিযোগ
- বাংলাদেশে যৌথ ড্রোন কারখানার প্রস্তাব দিয়েছে তুরস্ক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা
- জনগণের অর্থ ব্যয় ছাড়াই বিশ্বকাপ সম্প্রচার করবে বিটিভি: তথ্য মন্ত্রণালয়
- সরকারকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর দুঃখপ্রকাশ করলেও সমালোচনার মুখে জামায়াত নেতা
- সীমান্তে ২৪ ঘণ্টায় ৮টি পুশইন প্রতিহত করেছে বিজিবি
- মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সমন্বিত হামলার দাবি ইরানের
- বসুন্ধরার তাপমাত্রা বাড়ছে, আরও সচেতন হতে হবে আমাদের
- ইরানের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র
- ছবি তোলা নিয়ে বিরোধে বিএনপি নেতার ওপর হামলা, ৪ যুবদল কর্মী বহিষ্কার






