পদ্মা নদী এখন মরা খাল


প্রকাশিত: ০৮:৪১ ২৭ মে ২০২৪
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর পানি কমছে। কিন্তু নদীতে তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। হতাশ জেলেদের অনেকে জাল গুটিয়ে রাখছেন। উপজেলার সাঁড়া ও পাকশী এলাকায় গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়। মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নদীর নাব্য কমেছে, স্রোত নেই। চর জেগে ওঠায় মাছের দেখা মিলছে না। তবে জেলেরা আশা করছেন শিগগিরই আবার মাছ ধরা পড়বে।
উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের গাইড ব্যাংক পাড়া এলাকায় দেখা যায়, পদ্মা নদী শুকিয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। মাঝ নদীতে জেগে উঠেছে বিশাল বালুর চর। নদীর পাড়ে জেলেদের অলস সময় কাটাতে দেখা যায়। কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছেঁড়া-ফাটা জাল মেরামত করছেন।
কেউবা জাল গুটিয়ে খামাল (স্তূপ) দিয়ে রাখছেন। আবার কেউ নৌকার সংস্কার কাজও করছেন। জেলে আরমান খান নদীর পাড়ে বসে ছেঁড়া জাল মেরামত করছেন। পাশে বসে আছেন তার স্ত্রী ও মেয়ে। তিনি বলেন, ‘ইলিশ সংরক্ষণের অভিযান শেষে কয়দিন ভালো মাছ ধরা পড়ছিল। ওই সময় কম-বেশি অনেকে মাছ পেয়েছিলাম। ১৫ দিন ধরে তেমন একটা মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের সুতি জালে বড় মাছ ধরা পড়ে।
বাধ্য হয়ে জাল তুলে ছেঁড়া-ফাটা যা আছে, ঠিক করে রাইখা দিবো।’ জেলে আক্কাস সরদার বলেন, ‘কয়েকদিন মাছ মোটামুটি পেয়েছিলাম। এহন কয়দিন ধইরা তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাই তা দিয়ে নিজেদের খরচ উঠছে না। তাই জাল তুলে খামাল দিইয়া রাখছি। কিছুদিন পর আবার নামাবো।’ খায়রুল খাঁ বলেন, পানি কমে নদীতে চর পড়ে গেছে। ছোট ২-৪টি ইলিশ ছাড়া কোনো মাছ পাওয়া যায় না। পৌষ মাসে শীত ও কুয়াশায় উজানের অনেকে মাছ ধরতে পারেন না। তখন আমাদের অঞ্চলে কিছু মাছ ধরা পড়তে পারে। এই আশায় আমরা সবাই প্রহর গুনছি। আমার তিনটি নৌকায় ১০ জনের প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ গতকাল ৬০০ টাকার মাছ বিক্রি করেছি। এই টাকা দিয়ে নৌকার খরচই ওঠে না। সেখানে সংসারের খরচ চালাবো কী করে? উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা আ. রহমান খান বলেন, নদীতে স্রোত নেই। চর পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। নাব্য না থাকায় মাছ কমে যাচ্ছে। এভাবে নদীতে চর পড়তে থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশের দেখা পাওয়া যাবে না। পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, এবারের প্রবাহ অনেক কম। গত বছর ৩১শে ডিসেম্বর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানি প্রবাহ ছিল ৯৩ হাজার ৬৪৮ কিউসেক এবং ওয়াটার লেভেল ছিল ৬ দশমিক ৫২ মিটার। চলতি বছরের ৩১শে ডিসেম্বর পানির প্রবাহ ও লেভেল হয়েছে যথাক্রম ৮০ হাজার ৫৩৬ কিউসেক এবং ৫ দশমিক ৬১ মিটার। গত বছরের তুলনায় পানির প্রবাহ কমেছে ১৩ হাজার ১১২ কিউসেক এবং ওয়াটার লেভেল কমেছে দশমিক ৯ মিটার। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর নদীগুলোর ভূগর্ভস্থ উচ্চতা বেড়েছে এবং পানির স্তর নিচে নেমে গেছে।
সর্বোচ্চ পঠিত - দেশজুড়ে
- ভাঙা আঙুলেও থামেননি মার্টিনেজ, ফাইনালের ‘অপরাজিত রাজা’ গড়লেন নতুন ইতিহাস
- দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, অবশেষে বাজারে আসছে ‘ট্রাম্প মোবাইল’
- অনার্সের পর মাস্টার্সেও প্রথম, ফল প্রকাশের দিনই হল ছাড়লেন শিবির নেতা সাজ্জাদ
- নড়াইলে জামিনে মুক্ত হয়েই ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর হামলা, আহত ২
- চাকরি দিচ্ছে ওয়ার্ল্ড ভিশন, দ্রুত আবেদন করুন
- নরওয়ের পত্রিকায় মোদিকে ‘সাপুড়ে’ কার্টুন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক
- ফেসবুকে ভাইরাল ‘কী রাগ করলা’ ট্রেন্ডে শাকিব খানের যুক্ত হওয়ায় নতুন উন্মাদনা
- বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর নতুন চাপ, সঞ্চালন ও পাইকারি উভয় পর্যায়ে বড় প্রস্তাব
- যৌতুক মামলায় গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা কারাগারে
- পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
- আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে খোরশেদ আলম, দিলেন আর্থিক সহায়তা
- সাভারে সাংবাদিকের মানবিক উদ্যোগে আশ্রয় পেলেন অজ্ঞাত নারী
- কাঁঠালের ভেতরে লুকিয়ে ফেনসিডিল পাচার, যশোরে যুবক গ্রেপ্তার
- কোন রক্তের গ্রুপে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি? গবেষণায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি, দল শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা
- ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক কোড সক্রিয়ের চেষ্টা ট্রাম্পের, যে কারণে পিছু হাঁটেন
- রেলের ইঞ্জিন সংকটে রংপুরে তেলের হাহাকার, বিপাকে পাঁচ জেলার জনজীবন
- সাভারের শাহীবাগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে লায়ন খোরশেদ
- মাঝআকাশে যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ: ফোনে ছবি তুলতেই ঘটেছিল দুর্ঘটনা
- অবরোধ তুলে নিলেই আলোচনায় প্রস্তুত ইরান, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধের আহ্বান




