• বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ | ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নড়াইলে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অপপ্রচার’-এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নড়াইলে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অপপ্রচার’-এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

শাকিল আহমেদ: নড়াইল প্রতিনিধি
শাকিল আহমেদ: নড়াইল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:০২ ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

নড়াইলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিছালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বাদ মাগরিব নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের তিন দোকান এলাকায় অবস্থিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী অফিসে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল-১ আসনের দশ দলীয় ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সার। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ১২ নম্বর বিছালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. মোখলেছুর রহমান, যুব বিভাগের সভাপতি মো. হাসিবুল মোল্যা, ৮ নম্বর কলোড়া ইউনিয়নের আমীর হাফেজ আ. হান্নানসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা) এর আমীর ও সংসদ সদস্য প্রার্থীরা পরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তারা বলেন, জামায়াতে ইসলামী ইনসাফ ও ন্যায়ের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। তাই এই অগ্নিসংযোগের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সার বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নির্বাচনী অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীর ও সংসদ সদস্য প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে যে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়েছেন, তা অনভিপ্রেত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর আমরা জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছি, কিন্তু কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধের রাজনীতি করিনি। আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করি। মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।’

এ বিষয়ে বিছালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নড়াইল জেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান আহ্বায়ক হেমায়েত হোসেন ফারুক বলেন, হাতপাখার নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর ওপর দায় চাপিয়েছে, যা তদন্ত ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, সোমবার (২৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের তিন দোকান এলাকায় অবস্থিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) নির্বাচনী অফিসে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিল, মাইক, হাতপাখা ও নির্বাচনী প্রতীকসহ বিভিন্ন সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

এর আগে একই দিন রাতে ভোটের প্রচারকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও কয়েক ঘণ্টা পর গভীর রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/