• মঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট, ২০২৬ | ২ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির কাছে ২০ আসন ও মন্ত্রিসভায় অংশীদারিত্ব চায় এনসিপি

বিএনপির কাছে ২০ আসন ও মন্ত্রিসভায় অংশীদারিত্ব চায় এনসিপি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:০০ ৫ নভেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা ও সম্ভাব্য জোট নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বিএনপির সঙ্গে অন্তত ২০টি আসনে সমঝোতা এবং ভবিষ্যতে সরকার গঠিত হলে মন্ত্রিসভায় অংশীদারিত্ব চায় বলে জানা গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত এই আলোচনা আনুষ্ঠানিক নয়, বরং সবকিছু চলছে নেপথ্যে, অনানুষ্ঠানিকভাবে।

এনসিপি ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, এনসিপি কার সঙ্গে জোট করবে বা এককভাবে নির্বাচন করবে—তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। দলের কিছু প্রভাবশালী নেতা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেলেও বিএনপি চায় না এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যাক। এনসিপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের তিনজনকে মন্ত্রী করার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং দলীয় নেতাদের রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।

দলটি নিজেদের ডানপন্থী নয়, বরং মধ্যপন্থী ও বাস্তববাদী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চায়। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের মৌলিক দাবিগুলোর সঙ্গে যারা কাছাকাছি আছে, তাদের সঙ্গেই আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি, তবে সেটা পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত হবে।” এনসিপির নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার প্রধান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সেক্রেটারি তাসনিম জারা।

দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আছেন নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১), আখতার হোসেন (রংপুর-৪), নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (ঢাকা-১৮ বা চাঁদপুর-৫), তাসনিম জারা (ঢাকা-৯), আরিফুল ইসলাম আদীব (ঢাকা-১৪), সারজিস আলম (পঞ্চগড়-১), হাসনাত আবদুল্লাহ (কুমিল্লা-৪), আবদুল হান্নান মাসউদ (নোয়াখালী-৬) প্রমুখ। এছাড়া মনিরা শারমিন (নওগাঁ-৫), সারোয়ার তুষার (নরসিংদী-২), আতিক মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২), আবদুল্লাহ আল আমিন (নারায়ণগঞ্জ-৪), এস এম সাইফ মোস্তাফিজ (সিরাজগঞ্জ-৬) এবং জয়নাল আবেদীন শিশির (কুমিল্লা-১০) প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

আসন সমঝোতার পাশাপাশি এনসিপি এককভাবে নির্বাচন করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, “এই মুহূর্তে এনসিপি নির্বাচনী জোট নিয়ে চিন্তা করছে না। আমরা বিভিন্ন দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি, তবে নিজের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতেই এখন মনোযোগী।” তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই এককভাবে নির্বাচন করার সক্ষমতা অর্জন করতে, তবে শেষ সময় পর্যন্ত সব সম্ভাবনা খোলা রাখব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপি যদি বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় যেতে পারে, তাহলে এটি হতে পারে বিএনপির জন্য একটি নতুন মিত্রশক্তি। অন্যদিকে, জোট না হলে এনসিপির একক অংশগ্রহণ মধ্যপন্থী ভোটব্যাংকে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞাপন