• সোমবার , ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানী ও উৎসব ভাতা দেবে সরকার

ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানী ও উৎসব ভাতা দেবে সরকার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:২১ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। এর আওতায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মাসিক সম্মানী, উৎসব ভাতা এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করে।

ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় কর্মীরা পাবেন সম্মানী

নতুন নীতিমালার আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এর পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের উৎসব ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়মিত আয় ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।

নীতিমালার অন্যতম লক্ষ্য হলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করা এবং তাদের দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমানো।

দক্ষতা উন্নয়নে দেওয়া হবে প্রশিক্ষণ

শুধু মাসিক সম্মানী বা উৎসব ভাতার মধ্যে সরকারের উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকছে না। ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে নতুন নীতিমালায়।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সরকার মনে করছে, এতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের পেশাগত দক্ষতাও উন্নত হবে।

কেন এই নীতিমালা

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিস্তার, সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও অন্যান্য সেবকরা ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রচারের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখছেন।

তাদের এই অবদান বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের উদ্দেশ্যেই নীতিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন

সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ

ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত অনেক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সীমিত আয় ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নতুন নীতিমালার আওতায় সম্মানী ও উৎসব ভাতা চালু হলে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা কিছুটা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি হলে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে।

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কল্যাণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন