• বুধবার , ০৮ জুলাই, ২০২৬ | ২৪ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে সহযোগিতা বাড়াবে বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম

মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে সহযোগিতা বাড়াবে বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৪২ ৮ জুলাই ২০২৬

মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম। একই সঙ্গে দুই দেশ নিরাপত্তা সহযোগিতা, কনস্যুলার সেবা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে এ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ভিয়েতনামের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং।

বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা, অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ পক্ষ অনিয়মিত অভিবাসীদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে ভিয়েতনামের সহযোগিতা কামনা করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈধ পর্যটক, ব্যবসায়ী, কর্মজীবী এবং পারিবারিক ভিসা প্রত্যাশী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, নিয়মিত ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

মানবপাচার, মাদক চোরাচালান ও সীমান্ত অতিক্রমকারী অপরাধ মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ওপরও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দেশ এ ধরনের অপরাধ দমনে তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত পদক্ষেপ বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।

বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ পক্ষ জানায়, দুই দেশের বাণিজ্য ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট বা পিটিএ স্বাক্ষরিত হলে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য মানসম্মত পণ্য আমদানির বিষয়ে ভিয়েতনামের আগ্রহ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ভিয়েতনামের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর আমন্ত্রণ জানানো হয়।

ভিয়েতনাম পক্ষ বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয়। দুই দেশই আশা প্রকাশ করে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম সম্পর্ক নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী হবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/