• মঙ্গলবার , ০৪ আগস্ট, ২০২৬ | ২০ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা

ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৯ ৪ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দেশটির ২৫টি অঙ্গরাজ্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে মামলা করেছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের অজুহাতে যেসব অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে, তা আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং সংবিধানসম্মত নয়।

মামলাটি সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে দায়ের করা হয়। এতে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়েস, ম্যাসাচুসেটস, ওয়াশিংটন, উইসকনসিন, পেনসিলভেনিয়াসহ ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন ২৫টি অঙ্গরাজ্য বাদী হিসেবে অংশ নিয়েছে।

গত জুলাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ভারত, কানাডা, জাপান, নরওয়ে, তাইওয়ান, চীনসহ মোট ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। প্রশাসনের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ও রপ্তানি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। নতুন শুল্ক ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা অনুযায়ী আরোপ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন পূর্বে আদালতে বাতিল হওয়া শুল্কনীতিকে নতুন আইনি ভিত্তিতে পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, এটি মূলত আগের নীতিরই নতুন রূপ এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহার।

এর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (IEEPA) আওতায় আরোপ করা বিস্তৃত শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালত জানায়, ওই আইনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের এমন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নেই। এরপর নতুন করে ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করা হয়, যা নিয়েও এখন আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় সত্ত্বেও প্রশাসন আবারও একই ধরনের শুল্ক আরোপের মাধ্যমে মার্কিন পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। তার মতে, প্রেসিডেন্ট একক সিদ্ধান্তে যেকোনো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারেন না।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার বৈধ বাণিজ্যিক ক্ষমতা ব্যবহার করছে এবং জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া মার্কিন শ্রমিক ও ব্যবসার স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়। প্রশাসনের দাবি, ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা এই পদক্ষেপের যথেষ্ট আইনি ভিত্তি প্রদান করে।

এদিকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল অভিযোগ করেছেন, নতুন শুল্কের কারণে সাধারণ ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, নির্মাণসামগ্রী এবং অন্যান্য দৈনন্দিন পণ্যের দাম বাড়তে পারে। তার ভাষায়, এই নীতি কার্যত সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এবার আগের তুলনায় ভিন্ন আইনি ভিত্তি ব্যবহার করলেও আদালতে এই শুল্কনীতি কতটা টিকবে, তা নির্ভর করবে ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা প্রয়োগের যৌক্তিকতা এবং প্রশাসনের উপস্থাপিত প্রমাণের ওপর। মামলার রায় যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞাপন