• বৃহস্পতিবার , ০৯ জুলাই, ২০২৬ | ২৫ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাশহাদে আজ খামেনির দাফন, নাজাফে লাখো মানুষের শ্রদ্ধা

মাশহাদে আজ খামেনির দাফন, নাজাফে লাখো মানুষের শ্রদ্ধা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০২ ৯ জুলাই ২০২৬

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন আজ বৃহস্পতিবার ইরানের মাশহাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জন্মস্থান মাশহাদেই তাকে সমাহিত করা হবে বলে ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এর আগে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বুধবার তার মরদেহ ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফে নেওয়া হয়। সেখানে লাখো মানুষ শোকযাত্রায় অংশ নিয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

নাজাফে আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ কারবালায় নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ইমাম হুসেন (রা.) ও হজরত আব্বাস (রা.)-এর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

বুধবার ভোর থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নাজাফে শোকযাত্রা শুরু হয়। ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনটি বিশেষ কাচঘেরা বাহনে রাখা ছিল। হজরত আলি (রা.)-এর পবিত্র মাজারে তার জন্য দোয়া করা হয়।

শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকা, কালো শোকপতাকা এবং লাল পতাকা। অনেককে বুক চাপড়ে শোক প্রকাশ করতে দেখা যায়। নাজাফ ও কারবালার বিভিন্ন সড়কে শোকযাত্রীদের জন্য স্বেচ্ছাসেবীরা খাবার ও পানীয় বিতরণ করেন।

এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য এমন সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের সরকার এই শোকানুষ্ঠানকে জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের বার্তা হিসেবে তুলে ধরতে চায়।

নাজাফ শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র নগরী। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বহু শিয়া ধর্মীয় নেতা এখানে শিক্ষা গ্রহণ ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনিও একসময় নাজাফে অবস্থান করেছিলেন।

এদিকে নিরাপত্তার কারণে খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে আলোচিত তার দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনি এখনো প্রকাশ্যে আসেননি বলে জানা গেছে। তবে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তিনি লিখিত বার্তার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নাজাফে বিপুল মানুষের উপস্থিতি শুধু একটি ধর্মীয় শোকানুষ্ঠান নয়; এটি ইরান ও ইরাকের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কেরও প্রতীক। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হুসেইনের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়, যার প্রতিফলন খামেনির শেষ বিদায়ের আয়োজনেও দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন