• রবিবার , ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১৯ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অবিশ্বাস্য! দত্তক পরিবারেই জন্ম নিয়েছিল প্রযুক্তির তিন সম্রাটের স্বপ্ন

অবিশ্বাস্য! দত্তক পরিবারেই জন্ম নিয়েছিল প্রযুক্তির তিন সম্রাটের স্বপ্ন

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪:৩৪ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিশ্বের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের সাফল্যের গল্প আমরা সাধারণত জানি তাঁদের উদ্ভাবনী শক্তি, ব্যবসায়িক দূরদৃষ্টি ও অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে। কিন্তু তাঁদের জীবনের অজানা অধ্যায়ের কথা অনেকেই জানেন না। অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন—এই তিন মহীরুহ শৈশবে দত্তক সন্তান হিসেবে বেড়ে উঠেছিলেন। ভিন্ন ভিন্ন পরিবারে বড় হলেও তাঁরা পেয়েছিলেন ভালোবাসা, অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা। আর সেই অভিজ্ঞতাই তাঁদের করেছে দৃঢ়চেতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও সৃজনশীল।

স্টিভ জবস

স্টিভ জবস জন্মেছিলেন সিরীয় শিক্ষার্থী আবদুলফাত্তাহ জন্দালি ও মার্কিন তরুণী জোয়ান শিবলের ঘরে। পারিবারিক আপত্তির কারণে জোয়ান নবজাতককে দত্তক দেন। প্রথম দম্পতি ছেলেসন্তান নিতে রাজি না হওয়ায় অবশেষে কর্মজীবী দম্পতি পল ও ক্লারা জবস তাঁকে লালন-পালন করেন। ছোটবেলা থেকেই দত্তক মা–বাবার প্রতি জবসের ছিল গভীর টান। তিনি তাঁদেরকেই নিজের প্রকৃত মা–বাবা মনে করতেন। পল-ক্লারার স্নেহ ও উৎসাহেই জন্ম নেয় কৌতূহল, সৃজনশীলতা ও নতুন কিছু করার তাগিদ, যা তাঁকে অ্যাপল ও পিক্সারে যুগান্তকারী উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে দেয়।

জেফ বেজোস

জেফ বেজোসের জন্মনাম ছিল জেফরি প্রেস্টন জর্গেনসেন। তাঁর মা জ্যাকলিন কিশোরী বয়সে সন্তান জন্ম দেন এবং কিছুদিন পরেই স্বামীকে তালাক দেন। জেফের বয়স যখন চার বছর, তখন জ্যাকলিন বিয়ে করেন কিউবান অভিবাসী মিগেল ‘মাইক’ বেজোসকে। মাইক জেফকে দত্তক নেন এবং তখন থেকেই তাঁর পদবি হয় বেজোস। মাইক ছিলেন শৃঙ্খলাবদ্ধ ও কর্মঠ মানুষ। তাঁর কাছ থেকেই জেফ শিখেছিলেন অধ্যবসায়, শেখার আনন্দ এবং জীবনের নৈতিকতা। পরে বেজোস স্বীকার করেন, মাইক ছিলেন তাঁর জীবনের প্রধান অনুপ্রেরণা। সেই পরিবারেই জন্ম নেয় তাঁর বিজ্ঞানপ্রেম, প্রযুক্তির প্রতি ভালোবাসা ও ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি, যা তাঁকে অ্যামাজনের স্বপ্নদ্রষ্টা উদ্যোক্তায় পরিণত করে।

ল্যারি এলিসন

ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসনের জন্ম নিউইয়র্কে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর গর্ভে। জন্মের পরপরই তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। মায়ের পক্ষে সন্তান লালন সম্ভব না হওয়ায় খালা লিলিয়ান ও খালু লুইস এলিসন তাঁকে দত্তক নেন এবং শিকাগোতে বড় করেন। লিলিয়ান ছিলেন স্নেহশীল, আর লুইস ছিলেন কঠোর স্বভাবের। দক্ষিণ শিকাগোর সাধারণ জীবনযাপন ও প্রতিকূলতা তাঁকে বানায় আত্মনির্ভর, দৃঢ়চেতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী। ১২ বছর বয়সে তিনি পুরোপুরি বুঝতে পারেন, তিনি দত্তক সন্তান। জীবনের সেই প্রতিকূলতা থেকেই তিনি শক্তি পান, যা তাঁকে ওরাকল প্রতিষ্ঠা করে প্রযুক্তিজগতে এক সাম্রাজ্য গড়তে সাহায্য করে। ৪৮ বছর বয়সে প্রথমবার জৈবিক মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। নিজের সাফল্যকে তিনি সবসময় দেখেছেন ‘স্বনির্মিত মানুষের জয়’ হিসেবে।

স্টিভ জবস, জেফ বেজোস ও ল্যারি এলিসনের জীবনের এই অজানা অধ্যায় প্রমাণ করে, জন্ম নয়, বরং লালন-পালন, পরিবেশ ও সংগ্রামই একজন মানুষকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দেয়। তাঁদের গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে সেইসব মানুষের জন্য, যারা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও স্বপ্ন দেখতে ও লড়াই চালিয়ে যেতে চান।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/