• শুক্রবার , ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পোলাওর চালের দাম দ্বিগুণ, রপ্তানি নাকি কৃত্রিম সংকট?

পোলাওর চালের দাম দ্বিগুণ, রপ্তানি নাকি কৃত্রিম সংকট?

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:০৯ ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একসময় ঘরোয়া আয়োজনের স্বাভাবিক খাবার ছিল পোলাও। তবে এখন পোলাওর চাল কিনতে কেজিপ্রতি গুনতে হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। রাজধানীর বাজারে বর্তমানে প্যাকেটজাত পোলাওর চাল ২১০ থেকে ২৩০ টাকা এবং খোলা চাল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও প্যাকেটজাত চালের দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং খোলা চাল প্রায় ১১০ টাকা।

বাজারসংশ্লিষ্টদের একাংশ বলছেন, সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন বাড়ার পর থেকেই দেশীয় বাজারে সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার ৩২০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৯৫৯ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানির অনুমোদন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে রপ্তানিকারকদের দাবি, অল্প পরিমাণ রপ্তানির কারণে দেশের বাজারে এমন সংকট হওয়ার কথা নয়।

রপ্তানিকারকদের হিসাবে, দেশে বছরে প্রায় ১০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয়, যেখানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। ফলে প্রায় ৬ লাখ টন উদ্বৃত্ত থাকে। অন্যদিকে বাজারের ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অভিযোগ, বড় মিল ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন মৌসুমে বিপুল পরিমাণ ধান কিনে মজুত করেছে। পরে ধানের দাম বৃদ্ধিকে কারণ দেখিয়ে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। ভালো মানের চিনিগুঁড়া চালের ৫০ কেজির বস্তার দামও এক মাসে ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৯ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে।

ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান মনে করেন, রপ্তানিকে চালের বাজারের সংকটের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, দেশে সুগন্ধি চালের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ায় রপ্তানির কারণে এত বড় সংকট হওয়ার কথা নয়। বরং এক শ্রেণির ব্যবসায়ী দাম বাড়ানোর জন্য রপ্তানিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ফলে পোলাওর চালের দাম বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ জানতে উৎপাদন, মজুত, রপ্তানি ও বাজার সরবরাহ—সব দিকেই নজরদারি প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন