• বুধবার , ২০ মে, ২০২৬ | ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন, বড় বরাদ্দ ও ‘থোক’ খাত নিয়ে বিতর্ক

৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন, বড় বরাদ্দ ও ‘থোক’ খাত নিয়ে বিতর্ক

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:১৬ ১৮ মে ২০২৬

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় এই বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন যুক্ত করলে মোট উন্নয়ন ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

এডিপিতে এবারও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে, যেখানে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এরপর রয়েছে শিক্ষা খাত, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং গৃহায়ন খাত।

এনইসি সভায় জানানো হয়, উন্নয়ন পরিকল্পনাকে পাঁচটি মূল ভিত্তির ওপর সাজানো হয়েছে—রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার, বৈষম্য কমানো, অর্থনীতির পুনর্গঠন, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংহতি জোরদার।

তবে এবারের উন্নয়ন কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ‘থোক বরাদ্দ’। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিশেষ সহায়তা মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে অনির্দিষ্ট এই খাতে, যা নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতেও বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই খাতে প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের তুলনায় এই অনির্দিষ্ট বরাদ্দ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা খাতে পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির জন্যও বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সহায়তা খাতেও বিশেষ বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এডিপিতে মোট ১ হাজারের বেশি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক নতুন প্রকল্প এবং কিছু চলমান প্রকল্প দ্রুত শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে চলমান অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয়ের বাস্তবায়ন হার তুলনামূলক কম হওয়ায় এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, বাস্তবায়ন সক্ষমতা না বাড়লে পরিকল্পনার বড় অংশই পিছিয়ে যেতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই বিশাল কর্মসূচি কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

https://moreshopbd.com/